কারখানার শহর থেকে আইডিয়ার শহরে রূপান্তরের গল্প কলকাতার জমজ-এর।
হাওড়া মানেই দীর্ঘদিন ধরে শিল্পাঞ্চল, কারখানা ও শ্রমজীবী মানুষের শহর। কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে আরেক হাওড়া—স্টার্টআপ ও স্বনিযুক্তির হাব। কলকাতার খুব কাছেই থাকা এই জেলায় নতুন প্রজন্ম ঝুঁকছে প্রযুক্তি, পরিষেবা ও ছোট ব্যবসার দিকে।
বেলুড়, শিবপুর, ডোমজুড় ও উলুবেড়িয়ার মতো এলাকায় গড়ে উঠছে কো–ওয়ার্কিং স্পেস, ইনকিউবেশন সেন্টার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট হাব। এখানে তরুণরা শিখছে ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ই–কমার্স অপারেশন, ফুড প্রসেসিং ও হ্যান্ডমেড প্রোডাক্ট তৈরি।
একসময় চাকরির জন্য কলকাতা বা অন্য রাজ্যে যেতে হতো। এখন অনেকেই নিজের এলাকা থেকেই ব্যবসা শুরু করছেন। কেউ অনলাইন ফুড ডেলিভারি ব্র্যান্ড খুলেছেন, কেউ স্থানীয় শিল্পকে আধুনিক প্যাকেজিংয়ে বাজারজাত করছেন।
এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে ডিজিটাল সংযোগ ও কম খরচের প্রযুক্তি। স্মার্টফোন, অনলাইন পেমেন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছোট উদ্যোগও বড় বাজার পাচ্ছে। এক তরুণ উদ্যোক্তা বললেন, “আগে ব্যবসা মানেই বড় পুঁজি। এখন আইডিয়াই আসল পুঁজি।”
হাওড়ার স্টার্টআপ সংস্কৃতিতে নারীদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। বহু মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী, খাবার, পোশাক ও হস্তশিল্পের ব্যবসা শুরু করেছেন। এতে একদিকে পরিবারের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে সামাজিক অবস্থানও শক্ত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের স্থানীয় স্টার্টআপ হাব কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। বড় শিল্প না এলেও ছোট ছোট উদ্যোগ মিলেই শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে ওঠে।
তবে সমস্যা রয়ে গেছে—পণ্য বা পরিষৈবার যথাযথ অর্থায়ন, মেন্টরশিপ ও বাজার সংযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা বাড়লে এই উদ্যোগ আরও গতি পাবে।
হাওড়া আজ আর শুধু কলকাতার পাশের শহর নয়। এটি ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় তৈরি করছে—স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্ন গড়ার শহর হিসেবে।


