কলকাতায় খুব শীঘ্রই দেখা মিলতে পারে আধুনিক, হালকা ওজনের ট্রামের। শহরের ট্রাম পরিষেবাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে বিদেশ থেকে অত্যাধুনিক ট্রাম আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। এই ট্রামগুলি হবে অস্ট্রেলিয়ায় চলাচলকারী ট্রামের আদলে নির্মিত এবং একই সঙ্গে হবে জ্বালানি-সাশ্রয়ী।
কলকাতার পরিবহণ দফতর শহরের ধীরগতির, ঐতিহ্যবাহী ট্রাম কোচগুলির পরিবর্তে আধুনিক ও হালকা ট্রাম চালুর পরিকল্পনা করছে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসময় শহরে ট্রাম পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও, এখন সরকার সেই পরিষেবাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রামপ্রেমীরা।

জানা গিয়েছে, নতুন ট্রামগুলি বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হবে এবং সেগুলি অস্ট্রেলিয়ায় চলাচলকারী ট্রামের মতোই হবে। এছাড়াও, এই ট্রামগুলি হবে শক্তি-সাশ্রয়ী এবং ‘জিরো এমিশন’ প্রযুক্তিনির্ভর, ফলে পরিবেশের জন্যও হবে অনেক বেশি উপযোগী। সম্প্রতি রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন।
বর্তমানে কলকাতায় ট্রাম পরিষেবা মাত্র দুটি রুটে চালু রয়েছে— এসপ্ল্যানেড-শ্যামবাজার এবং এসপ্ল্যানেড-গড়িয়াহাট। তবে ভবিষ্যতে আরও কোন কোন রুটে ট্রাম চালানো যেতে পারে, তা নির্ধারণ করতে সমীক্ষা চালাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার এসপ্ল্যানেড-খিদিরপুর ট্রাম রুটও পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে। শহরের সবুজে ঘেরা মনোরম পথ অতিক্রম করার জন্য এই রুটটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। পাশাপাশি, কলকাতার ট্রাম ঐতিহ্যের সঙ্গেও এই রুটের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

জেনে অবাক হবেন, কলকাতার ট্রাম পরিষেবাই এশিয়ার প্রাচীনতম সচল ট্রাম পরিবহন ব্যবস্থা। ১৮৭৩ সালে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, অর্থাৎ এই ঐতিহ্যের বয়স এখন ১৫০ বছরেরও বেশি।
বর্তমানে বহু ট্রাম বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সেগুলির অধিকাংশই আর পরিষেবা দেওয়ার উপযুক্ত নয়। সেই কারণেই বিদেশ থেকে নতুন ও আধুনিক ট্রাম আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।

তবে এই প্রকল্প এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমে ট্রাম পরিষেবাকে কীভাবে কার্যকরভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হবে। সেই সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।


