Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

ছায়া(The shadow): প্রথম বাংলা এআই শর্ট ফিল্মের অন্তরালের কাহিনি

ছায়া(The Shadow) শুধুমাত্র একটি এআই পরীক্ষামূলক কাজ নয়। এটি ইতিহাসের প্রথম বাংলা এআই শর্ট ফিল্ম—এবং সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে হাইপার-রিয়ালিস্টিক এআই চলচ্চিত্র। ওনি শীলের ভাবনায় নির্মিত, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সুমন ঘোষের পরিচালনায় এবং ডেটাবাজার ডিজিটালের এআই ফিল্ম স্টুডিও—ভারতের প্রথম এআই-চালিত চলচ্চিত্র প্রযোজনায় নিবেদিত স্টুডিও—তে প্রযোজিত এই কাজ ভারতীয় সিনেমায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

প্রতিটি বৈপ্লবিক প্রকল্পের পেছনে থাকেন একজন দূরদর্শী ব্যক্তি। ছায়া–র ক্ষেত্রে তিনি ওনি শীল। আমেরিকার মায়ামি স্থিত, ভারতীয়-মার্কিন উদ্যোক্তা শীল, গ্লোবাল ও ডেটাবাজার ডিজিটালেরও প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৯ সালেই তিনি ডেটাবাজার মিডিয়া—(পরবর্তীতে বংফ্লিক্স নামে পরিচিত)—প্রবর্তন করেন, যখন স্ট্রিমিং মূলধারায় আসেনি। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছিল: দর্শক সবসময় শিল্পের ধারণার চেয়ে এগিয়ে।

এআই চলচ্চিত্র নির্মাণ যখন মূলত সায়েন্স ফিকশন প্রদর্শনী ও প্রযুক্তি-ডেমোতে সীমাবদ্ধ, তখন শীল বিশ্বাস করতেন—এআই দিয়ে তৈরি করা সম্ভব গভীর মানবিক নাটক, বাস্তব চরিত্র, প্রাঞ্জল সংলাপ ও জটিল আবেগঘন গল্প। তাঁর নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে ভারতের প্রথম এআই ফিল্ম স্টুডিও—যেখানে ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও এআই ইঞ্জিনিয়াররা একসঙ্গে কাজ করেন।

অন্যদিকে, ছায়া–র সূচনা কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে নয় বরং দুই পুরনো বন্ধু—ওনি শীল ও সুমন ঘোষের আলাপচারিতায় শুরু হয়েছিল। আলোচনায় উঠে আসে একটি প্রশ্ন—এআই কি সত্যিই গুরুতর, মনস্তাত্ত্বিক, আবেগনির্ভর সিনেমা তৈরি করতে পারে?

শীল বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ এআই দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারি।”
ঘোষ সংশয় প্রকাশ করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন—যদি এআই স্টুডিও তাঁর ধাঁচের জটিল মনস্তাত্ত্বিক নাটক, স্তরবিন্যস্ত আবেগ ও সূক্ষ্ম চরিত্রায়ন ফুটিয়ে তুলতে পারে, তবেই তিনি বিশ্বাস করবেন এআই সিরিয়াস সিনেমার জন্য প্রস্তুত।

শীল বিনা দ্বিধায় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। ছায়া চলচ্চিত্রের কেন্দ্রে আছেন এক সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ, যিনি এক সকালে দেখেন—তার ছায়া নেই। দৈনন্দিন জীবনের অদ্ভুত বিঘ্ন ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক মনস্তাত্ত্বিক রহস্যে। ছায়া কি সত্যিই হারিয়েছে? নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে গভীরতর মানসিক সংকট?

রূপকের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি অনুসন্ধান করে পরিচয়, বাস্তবতা ও অবচেতনের সূক্ষ্ম সীমানা। এটি এমন একটি গল্প, যা প্রচলিত ক্যামেরা দিয়েও নির্মাণ কঠিন—সম্পূর্ণ এআই দিয়ে নির্মাণ তো আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

ওনি সীলের পরিকল্পিত(ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর + এআই ইঞ্জিনিয়ার) মডেলে তৈরি হয় ছায়া। এখানে পরিচালকের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়ন করেন এআই ইঞ্জিনিয়ারদের টিম।

মূল দলে আছেন —
ওনি শীল — পরিকল্পনাকারী, মেন্টর ও নির্বাহী প্রযোজক
সুমন ঘোষ — পরিচালক, গল্প ও চিত্রনাট্য
সুমন বিশ্বাস — এআই ইঞ্জিনিয়ার ও এআই-ভিত্তিক সম্পাদনা
রোহন রায় — এআই ইঞ্জিনিয়ার
অভিনব সরকার — এআই-ভিত্তিক সম্পাদনা
দীপঙ্কর জোজো চাকি — ফিল্মফেয়ার পুরস্কারপ্রাপ্ত সাউন্ড ডিজাইনার
মলয় সাহা — খ্যাতনামা চলচ্চিত্র সম্পাদক, মেন্টর

এই দলগত সমন্বয়ই প্রকল্পটিকে প্রযুক্তি-নির্ভর পরীক্ষা থেকে পূর্ণাঙ্গ সিনেমায় উন্নীত করেছে। প্রথমে সুমন ঘোষ সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য লেখেন এবং প্রতিটি দৃশ্যের শট ব্রেকডাউন, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, আলো, আবেগ—সব আগেভাগে নির্ধারণ করেন। এই সুস্পষ্ট সৃজনশীল নকশাই ছিল এআই নির্মাণের ভিত্তি। এআই টুলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে—মুখের অসামঞ্জস্য, আলোর পরিবর্তন, ‘এআই লুক’ ইত্যাদি। অধিকাংশ নির্মাতা এই সীমাবদ্ধতা মেনে নেন। কিন্তু ডেটাবাজার ডিজিটালের দল তা অতিক্রম করেছে।

তাঁরা সমাধান করেছেন—
▸ চরিত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
▸ সূক্ষ্ম মানবিক অভিব্যক্তি তৈরি
▸ আলো ও রঙের সামঞ্জস্য রক্ষা
▸ ‘আনক্যানি ভ্যালি’ অতিক্রম
▸ একাধিক পর্যায়ে পুনর্নির্মাণ ও পরিমার্জন

সঠিক শব্দের ব্যবহার আর সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পাদনার এই নিরলস প্রচেষ্টাই ছায়া–কে বিশ্বের অন্যতম হাইপার-রিয়ালিস্টিক এআই চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে।
কেন ছায়া গুরুত্বপূর্ণ

ভারত বিশ্বে সর্বাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে। তবু এআই চলচ্চিত্র নির্মাণ এতদিন সীমাবদ্ধ ছিল পরীক্ষামূলক পর্যায়ে।

ছায়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ—
▸ এটি প্রথম বাংলা এআই শর্ট ফিল্ম
▸ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালকের এআই অভিষেক
▸ বিদ্যমান এআই টুলের সীমা অতিক্রম করে নির্মাণ
▸ প্রমাণ—এআই দিয়ে গভীর মনস্তাত্ত্বিক নাটক সম্ভব
এক নতুন সূচনা
ছায়া কোনও সমাপ্তি নয়—এটি এক সূচনা।
ডেটাবাজার ডিজিটালের এআই ফিল্ম স্টুডিও ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজনা সংস্থা ও গল্পকারদের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে, যাতে সৃজনশীল স্বাধীনতা ও শিল্পমান বজায় রেখে এআই চলচ্চিত্রের পরবর্তী ঢেউ তৈরি হয়।

ছায়া (The Shadow)—ওনি শীলের ভাবনায়, সুমন ঘোষের পরিচালনায়, সুমন বিশ্বাস, রোহন রায় ও অভিনব সরকারের এআই প্রকৌশলে, দীপঙ্কর জোজো চাকির সাউন্ড ডিজাইন এবং মলয় সাহার সম্পাদনায়—ভারতের প্রথম এআই ফিল্ম স্টুডিওতে নির্মিত এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।