Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

কলকাতার ছাদে চাষ: রুফটপ ফার্মিং বদলে দিচ্ছে শহরের খাদ্য–নিরাপত্তার ধারণা

কংক্রিটের জঙ্গলে সবুজের খোঁজ—নিজের খাবার নিজেই ফলাচ্ছে শহর। একসময় কলকাতার ছাদ মানেই ছিল কাপড় শুকোনোর জায়গা বা পুরনো জিনিসপত্রের গুদাম, অথবা শীতের দুপুরে মা-মাসীদের আড্ডার ঠেক সাথে দু-চারটে মরশুমী ফুলের টব। আজ সেই ছাদই বদলে যাচ্ছে সবুজ চাষের জমিতে।

দক্ষিণ কলকাতা থেকে সল্টলেক, নিউটাউন থেকে উত্তর কলকাতা—শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে রুফটপ ফার্মিং বা ছাদে চাষবাস। এটি শুধু শখ নয়, বরং শহরের খাদ্য–নিরাপত্তার এক বিকল্প সমাধান হয়ে উঠছে। শহরের বাজারে প্রতিদিনের সবজির দাম, সার আর কীটনাশক এর নামে যথেচ্ছ রাসায়নিক ব্যবহার ও ভেজালের আশঙ্কা মানুষকে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই ভাবনা থেকেই বহু পরিবার নিজেদের ছাদে শুরু করেছেন টমেটো, লঙ্কা, বেগুন, পুঁইশাক, ধনেপাতা থেকে শুরু করে স্ট্রবেরি ও লেটুস চাষ।
ছোট টব, গ্রো–ব্যাগ, ভার্টিক্যাল গার্ডেন—নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে অল্প জায়গাতেই হচ্ছে চাষ। কলকাতার একাধিক স্টার্টআপ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই আন্দোলনকে সংগঠিত রূপ দিয়েছে। তারা ছাদ পরীক্ষা করে দেয়, মাটি ও কম্পোস্ট সরবরাহ করে, এমনকি নিয়মিত প্রশিক্ষণও দেয়। অনেক ক্ষেত্রে মাসিক সাবস্ক্রিপশন মডেলে ছাদ–বাগানের রক্ষণাবেক্ষণও করা হয়। এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর খাদ্যাভ্যাসে। নিজের হাতে ফলানো সবজি খাওয়ার মধ্যে যেমন স্বাস্থ্যগত নিশ্চয়তা আছে, তেমনই আছে মানসিক তৃপ্তি। এক গৃহিণী বললেন, “বাজার থেকে শাক কিনে সন্দেহ থাকত। এখন ছাদেই সব পাচ্ছি।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রুফটপ ফার্মিং শহরের তাপমাত্রা কমাতেও সাহায্য করছে। ছাদে গাছ থাকলে ঘরের তাপ কমে, বিদ্যুৎ খরচও কিছুটা বাঁচে। পাশাপাশি বৃষ্টির জল ধরে রাখা ও বায়ু দূষণ কমানোর ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। নিয়মিত পরিচর্যা, জল সরবরাহ, ছাদের ওজন–বহন ক্ষমতা—সব বিষয়েই সচেতন থাকতে হয়। তবুও শহর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ভবিষ্যতে নতুন বাড়ি তৈরির সময় রুফটপ ফার্মিং–কে নকশার অংশ করা যেতে পারে। কলকাতা বরাবরই নিজস্ব গতিতে বদলায়। ছাদে চাষ তারই প্রমাণ—শহর নিজের খাদ্যের দায়িত্ব নিজেই নিতে শুরু করেছে।

হয়ত এই শহরের অর্গানিক রুফটপ ফার্মিং-ই বদলাবে দেশের মুখ।