Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

ঝাড়খণ্ডের গুমলার ওঁরাও কন্যা পার্বতী তিরকে পেলেন সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কার ২০২৫

আদিবাসী সত্তা, প্রকৃতি ও মানুষের সংগ্রাম— তাঁর কবিতায় মিশে গেছে এক অবিচ্ছেদ্য জীবনসুরের মত। ভারতের সমকালীন হিন্দি সাহিত্যে এক শক্তিশালী কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলার কবি, গবেষক ও শিক্ষিকা পার্বতী তিরকে। কুরুখ ভাষাভাষির জনজাতি যা ভারতীয় সংবিধান এ ওঁরাও জনজাতি হিসেবে নথিভুক্ত, সেই সম্প্রদায়ের সন্তান এই তরুণ কবি সম্প্রতি তাঁর প্রথম কবিতা সংকলন ‘ফির উগনা’–র জন্য অর্জন করেছেন সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কার ২০২৫।

১৯৯৪ সালের ১৬ জানুয়ারি জন্ম পার্বতী তিরকের। শৈশব কেটেছে প্রকৃতিনিবিড় গুমলায়। প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন গুমলার জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, থেকে।
পরবর্তীতে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইচইউ) থেকে হিন্দি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি বিভাগ থেকেই তিনি পিএইচডি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয়— “কুরুখ আদিবাসী গান: জীবন রাগ এবং জীবন সংগ্রাম”, যেখানে জনজাতীয় সংগীতের সুরে ফুটে ওঠে আদিবাসী জীবনের লড়াই ও অস্তিত্বের আখ্যান।

বর্তমানে তিরকে, রাম লখন সিং যাদব কলেজের হিন্দি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত, যা রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়–এর অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যচর্চার মূল লক্ষ্য জনজাতীয় মৌখিক ঐতিহ্য, লোকগান ও আধুনিক কবিতার মিলনস্থলকে নতুনভাবে অন্বেষণ করা।
তিনি লেখার মাধ্যমেই আদিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতা ও মূলধারার সাহিত্যচর্চার মধ্যে এক গভীর সংলাপ স্থাপন করেন।

২০২৩ সালে রাধাকৃষ্ণ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘ফির উগনা’ সংকলনটি হিন্দি কবিতায় এক সতেজ স্বর এনেছে। সংবেদনশীল অথচ সরল ভাষায় রচিত এই কবিতাগুলোয় মাটি, গাছ, পাখি, বন, নদী, আকাশ ও নক্ষত্রের জীবন্ত উপস্থিতি স্পষ্ট। আর স্পষ্ট হিন্দি ভাষার পাশাপাশি কুরুখ ভাষার শব্দের ব্যবহার যা এই আদিবাসী ভাষাকে মুলস্রোতে প্রতিষ্ঠিত করার এক সচেতন প্রচেষ্টা।

তিরকের কবিতায় প্রকৃতি কোনো প্রতীক নয়— বরং জীবনযাপনের অংশ, সহচর।
তিনি রোমান্টিকতা দিয়ে নয়, বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে জনজাতীয় মানুষের সংগ্রাম, প্রকৃতিপ্রেম ও সাংস্কৃতিক ক্ষয়ের বেদনাকে তুলে ধরেছেন। তাঁর কবিতায় আধুনিকতার সঙ্গে আদিবাসী সত্তার সংঘাত ও তার মধ্যেও এক নীরব সহনশীলতার সুর ধ্বনিত হয়েছে।
তিরকের কবিতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁর লেখায় প্রতিধ্বনিত হয় সেই জীবনদর্শন, যা বলে— “মাটি হারালেই মানুষ হারায় তার গান।”