মাছ ভারতীয় উপমহাদেশের এক আবশ্যক খাদ্য আর মাছধরা আদিমকাল থেকেই এই উপমহাদেশের জীবন ধারণের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
কিন্তু এই পেশায় ঝুঁকির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। কত সাহিত্য উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য এই মাঝি-মল্লা আর জেলেদের জীবন। সেই কোন যুগ থেকে বছরের পর বছর ভারতীয় জেলেরা শুধু অভিজ্ঞতার ভরসায় গভীর সমুদ্রে নামছেন মাছ ধরতে। ঝড়, উত্তাল ঢেউ আর ভুলবশত অদৃশ্য সীমান্ত অতিক্রম করে গিয়ে অনেকেই আর বাড়ি ফিরতে পারেননি, কত লোক হারিয়ে গেছেন ট্রলার সহ। রেডিওতে সতর্কবার্তা জারি করা হলেও বাড়ির লোককে সমুদ্রে পাঠিয়ে ভয়ে ভয়ে দিন কাটে জেলেদের পরিবারের।

কিন্তু এখন সেই ভয় ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার সময় এসেছে।
ইসরো-র তৈরি দেশীয় জিপিএস-ভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যার নাম DAT-SG বা ডিসট্রেস অ্যালার্ট ট্রান্সমিটার, সেকেন্ড জেনারেশন, এখন স্যাটেলাইট দ্বারা মানচিত্র আর সতর্কবার্তাকে সরাসরি মাছধরা নৌকায় পৌঁছে দিচ্ছে। অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে ফিরে আসছে নিশ্চয়তা।
জেনে নিন কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ…
ভারত–পাকিস্তান এর মতো সমুদ্রসীমাগুলোকে এখন এক ঝলমলে লাল আলোর রেখা দিয়ে মার্কিং করা হয়েছে।
কোনও নৌকা যদি সীমান্তের কাছাকাছি চলে যায়, সঙ্গে সঙ্গেই পর্দায় ভেসে ওঠে সতর্কবার্তা—অসংখ্য প্রাণকে বিপদ থেকে রক্ষা করছে এই সীমান্ত আলোক ব্যবস্থা।

এ ছাড়াও প্রাণ বাঁচাতে যে যে বৈশিষ্ট্যগুলো থাকছে এই নতুন সিস্টেমে সেগুলো হল-
১. নৌকার অবস্থান রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করার ব্যবস্থা।
২. জেলেদের শৈবাল-সমৃদ্ধ মাছধরা অঞ্চলের দিশা দেওয়া।
৩. ঘূর্ণিঝড় ও উত্তাল সমুদ্রের সতর্কবার্তা সরাসরি জেলে নৌকায় পাঠানো।
৪. প্রতিটি নৌকায় বসানো জরুরি বোতাম, যা মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীকে ।
৫. ১৩টি ভারতীয় ভাষায় এই ব্যবস্থার সমস্ত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
জেনে নেওয়া যাক কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা

ইসরো-র ন্যাভআইসি স্যাটেলাইট থেকে পাঠানো সব সঙ্কেত রশ্মি প্রথমে পৌঁছে যায় দিল্লিতে। সেখান থেকে সতর্কবার্তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয় আঞ্চলিক নজরদারি ও উদ্ধারকারী বাহিনীকে। সঙ্গে সঙ্গেই জানানো হয় বিপদে পড়া নৌকাকে। সতর্কবার্তার দ্রুত উত্তর দেওয়া হয়, যাতে জেলেরা বুঝতে পারেন যে সাহায্য আসছে।
এটি মাছধরার ব্যবসায় জড়িত সমাজের মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি এক পদক্ষেপ। এর সফল প্রয়োগে শুধুমাত্র নিরাপদই থাকছেন না জেলেরা, বরং সংকেত বুঝে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মাছও ধরতে পারছেন। ঝুঁকি কমছে, জীবিকা সুরক্ষিত হচ্ছে, আর তীরে অপেক্ষমাণ পরিবার পাচ্ছে নিশ্চিন্ত সময়।
এরই মধ্যে ২০,০০০-রও বেশি নৌকায়, যার মধ্যে ৫,০০০ গুজরাতে, এই যন্ত্র বসানো হয়েছে। অচিরেই সব নতুন নৌকার নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে এই ব্যবস্থায়, যাতে কোনও জেলে নৌকাই সুরক্ষার বাইরে না থাকে।


