Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

কলকাতার আকাশপথে চিকিৎসা: ড্রোন–সার্ভিস বদলে দিচ্ছে জরুরি স্বাস্থ্যব্যবস্থার গতি

ট্রাফিকের শহরে প্রতিটি মুহূর্ত প্রতিটি মিনিট সময়ই সবচেয়ে প্রাণদায়ী—আর সেই সময়ই বাঁচাচ্ছে ড্রোন। কলকাতা শহরের সবচেয়ে বড় বাস্তব সমস্যা যদি কিছু থাকে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ট্রাফিক জ্যাম। তারওপর যখন সেই ট্রাফিক জরুরি চিকিৎসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তার মূল্য দিতে হয় জীবন দিয়ে। এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেই শহরে নীরবে শুরু হয়েছে এক প্রযুক্তিগত বিপ্লব—ড্রোন–ভিত্তিক মেডিক্যাল সাপ্লাই সার্ভিস।

গত এক বছরে কলকাতার কয়েকটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যৌথভাবে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে ড্রোনের মাধ্যমে জরুরি ওষুধ, রক্ত ও প্লাজমা সরবরাহ। নিউটাউন, বেলেঘাটা, ই এম বাইপাস ও সল্টলেক অঞ্চল এই পরিষেবার প্রথম পর্বের আওতায় এসেছে। আগে যেখানে জরুরি রক্ত বা ওষুধ পৌঁছতে ৩০–৪৫ মিনিট লেগে যেত, সেখানে এখন ড্রোনে সময় লাগছে মাত্র ৫–৭ মিনিট। এই সময়ের পার্থক্যই অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন বাঁচাচ্ছে। বিশেষ করে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, সাপের কামড় বা বড় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর।

ড্রোনগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করা—তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত বক্স, GPS–নির্ভর রুট, রিয়েল–টাইম ট্র্যাকিং।
রক্ত বা ওষুধের গুণমান যাতে এক মুহূর্তের জন্যও নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। একজন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানালেন, “আগে ট্রাফিকের জন্য অনেক সময় আমাদের হাত বাঁধা থাকত। এখন ড্রোন সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে দিচ্ছে।” তাঁর অভিজ্ঞতায়, ড্রোন–ডেলিভারির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই একাধিক ক্রিটিক্যাল কেসে রোগী স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেছেন।


এই প্রযুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শহরের স্বাস্থ্য পরিষেবার সমমান। সব হাসপাতালের নিজস্ব ব্লাডব্যাংক থাকে না। ড্রোনের মাধ্যমে ছোট নার্সিংহোমও এখন দ্রুত বড় হাসপাতালের সহায়তা পাচ্ছে। ফলে চিকিৎসার মানের পার্থক্য কমছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। খারাপ আবহাওয়া, উঁচু বিল্ডিং, নিরাপত্তার অনুমতি—সব কিছুই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনায় রাখতে হয়।

তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, এই বাধাগুলো তত কমবে। আগামী দিনে এই পরিষেবা শহরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে—জেলার হাসপাতাল, নদীবেষ্টিত এলাকা, এমনকি দুর্যোগ–পরবর্তী পরিস্থিতিতেও ড্রোন বড় ভূমিকা নেবে।

কলকাতা বহুবার প্রমাণ করেছে, সংকটের মাঝেই এই শহর নতুন পথ খুঁজে নেয়। আকাশপথে চিকিৎসা সেই নতুন পথেরই নাম।