ফুকুওকা শহরের এক নিরিবিলি রাস্তায় আজ বাংলার রন্ধনশিল্প নতুন ঘর বেঁধেছে।
সেখানে কোজি নাকায়ামা ও সাচিকো নাকায়ামা পরিবেশন করছেন কলকাতার স্বাদ, যেন বাংলার আত্মা ভেসে গেছে জাপানে।
‘ইন্ডিয়ান স্পাইস ফ্যাক্টরি’-তে ভাতের ভাপে ভেসে ওঠে সর্ষে মাছের ঘ্রাণ। কলাপাতায় পরিবেশিত হয় খাবার, আর স্থানীয়ভাবে চাষ করা হয় মোচা, পুঁইশাকের মতো শাকসবজি—যাতে ফুটে ওঠে খাঁটি বাঙালি স্বাদ।
সাজসজ্জাতেও কলকাতার ছোঁয়া: মাটির হাঁড়ি, সাচিকোর উজ্জ্বল শাড়ি—সব মিলিয়ে যেন এক টুকরো বাংলা।
কোজির যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে, যখন তিনি কলকাতায় আসেন একটি জাপানি রেস্তোরাঁ চালু করতে সাহায্য করার জন্য। সাময়িক কাজের সেই দায়িত্বই হয়ে ওঠে জীবনের মোড় ঘোরানো অভিজ্ঞতা। শহরের উষ্ণতা, মানুষের আন্তরিকতা আর ভাত-মাছের স্বাদে মুগ্ধ হয়ে, স্ত্রী সাচিকোকে নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেন জাপানে বাংলার স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার।

২০১৮ সালে খোলে তাঁদের রেস্তোরাঁ। আজ মেনুতে রয়েছে মোচার ঘন্ট, সোনা মুগের ডাল, করলার ভাজা, পুঁইশাক, এমনকি কলকাতা স্টাইলে বিরিয়ানিও। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের মুরুক্কু থেকে শুরু করে উত্তর ভারতের ফিরনি পর্যন্ত নানা পদ স্থান করে নিয়েছে তাঁদের রান্নাঘরে।
জাপানি অতিথিদের কাছে এ অভিজ্ঞতা এক বিস্ময়। অতিরিক্ত ঝাল নয়, বরং সূক্ষ্ম ও ভারসাম্যপূর্ণ মসলার স্বাদ তাঁদের কাছে পরিচিত অথচ ভিন্নতর লাগে।
অন্যদিকে বাঙালি বা ভারতীয় অতিথিরা খাওয়ার সময় প্রায়শই আবেগে চোখ ভিজিয়ে ফেলেন—এ যেন দূরদেশে বাড়ির স্বাদ।

খাবারের বাইরেও তাঁরা শিখেছেন সেতার ও তবলা বাজানো, ফলে তাঁদের রেস্তোরাঁ এখন শুধু রন্ধনশিল্পের নয়, সাংস্কৃতিক এক সেতুবন্ধন কেন্দ্র —বাংলা ও জাপানের মধ্যে।
তাঁদের স্বপ্ন একেবারেই সোজা- সরল: জাপানের মানুষকে কলকাতার অনুভূতি দেওয়া—একটি করে হৃদয়ছোঁয়া আহারের মাধ্যমে।


