কলকাতায় বার্ষিক রথযাত্রা উৎসব এবারও ধরা দিল ঐতিহ্য, ভক্তি ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের অনন্য মেলবন্ধনে। একদিকে ভগবান জগন্নাথকে নিয়ে বিশেষ ‘ট্রাম যাত্রা’, অন্যদিকে ইসকনের বিশাল রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর হয়ে উঠল তিলোত্তমা।

ট্রামযাত্রা এবং ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ ‘ট্রাম যাত্রা’-য় দুই কোচের একটি ট্রামকে ভগবান জগন্নাথের ছবি এবং রথযাত্রার বিভিন্ন নকশায় সুসজ্জিত করা হয়। ট্রামটি গড়িয়াহাট থেকে এসপ্ল্যানেড হয়ে শ্যামবাজার পর্যন্ত যাত্রা করে।

এই বিশেষ ট্রামে ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার বিগ্রহের পাশাপাশি একটি ক্ষুদ্রাকৃতির রথও রাখা হয়েছিল। যাত্রাপথে ট্রামের মধ্যেই বিশেষ পূজা-অর্চনার আয়োজন করা হয়, যা যাত্রী ও পথচলতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অন্যদিকে, ইসকনের রথযাত্রায় পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোনার ঝাঁটা হাতে ঐতিহ্যবাহী ‘ছেড়া পাহানরা’ আচার পালন করে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

দুপুর নাগাদ তিনি আলবার্ট রোডের ইসকন মন্দিরে পৌঁছে ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার বিগ্রহের সামনে প্রার্থনা নিবেদন করেন।
পরবর্তীতে তিনি অসংখ্য ভক্তের সঙ্গে রথের দড়ি টানেন। এছাড়াও রথের সামনে আরতি করেন এবং সাষ্টাঙ্গ প্রণাম নিবেদন করেন।

প্রতিবছরের মত এবছরও বার্ষিক রথযাত্রায় বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। ভক্তিমূলক গান ও হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
পরম্পরাগত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিমন্ডলকে সামাজিক চাহিদাগুলির সাথে মিলিয়ে প্রাসঙ্গিক করে তোলার প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে আশার আলো দেখায়।


