Saturday, August 15, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

কলকাতার বহমান বইপ্রেম: নতুন প্রজন্মের হাত ধরে নতুন পথে

বই পড়ার সংস্কৃতি যে আর নেই, একথা আজ সারা দেশ জানে। তবে কলকাতার ক্ষেত্রে এ কথা মোটেও খাটে না। সময়ের সাথে কিছুটা কম-বেশী হলেও কলেজ স্ট্রিট এর বইপাড়া, ফি-বছরের বই মেলার হাত ধরে কলকাতা আজও বইমুখী। আর নতুন প্রজন্মের মধ্যে উৎসাহ জাগিয়ে রাখতে এই পথের নতুন কান্ডারী ‘বুকস্টাগ্রামার’ রা। যারা ভার্চুয়াল রাস্তায় বইয়ের খবর বিলি করে। বই পড়তে ভালবাসেন?পরবর্তী দারুণ বই খুঁজে পেতে অনুসরণ করুন কলকাতার পাঁচ জনপ্রিয় ‘বুকস্টাগ্রামার’-কে বইয়ের রিভিউ, ভিন্নধর্মী সাহিত্য-অন্বেষণ, সাহিত্যচর্চা থেকে সৃজনশীল কনটেন্ট—পাঠকসমাজে নিজস্ব স্বাক্ষর রেখে চলেছেন এই পাঁচ বইপ্রেমী

যদি বই-ই আপনার আজীবনের বন্ধু হয়, তাহলে কলকাতার এই বুকস্টাগ্রামাররাও খুব শিগগিরই হয়ে উঠতে পারেন আপনার কাছের সঙ্গী। বইয়ের সুচিন্তিত রিভিউ, বিভিন্ন সাহিত্যধারার অনুসন্ধান, সাহিত্য নিয়ে গভীর আলোচনা থেকে শুরু করে অভিনব কনটেন্ট—প্রত্যেকেই পাঠকসমাজে নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।

লেখার শৈলী ও আখ্যানের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাহেলি চট্টোপাধ্যায়:

সাহেলি চট্টোপাধ্যায় শুধু বইয়ের সুপারিশ করেই থেমে থাকেন না। তাঁর কনটেন্টে নিয়মিত উঠে আসে লেখার শৈলী, আখ্যান নির্মাণের কৌশল এবং বিভিন্ন সাহিত্যধারার অভিনব মেলবন্ধন—যেগুলি সাধারণত পাঠকদের নজরে আসে না। কখনও তিনি দেখান কীভাবে হাস্যরস মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, আবার কখনও আলোচনা করেন গল্প বলার ব্যতিক্রমী পদ্ধতি নিয়ে। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাহিত্যকে আবিষ্কার করতে ভালোবাসেন যাঁরা, তাঁদের জন্য সাহেলির পেজ একটি আদর্শ ঠিকানা।

বাংলা সাহিত্য থেকে বিশ্বসাহিত্য—কস্তুরীর পেজে মিলবে বৈচিত্র্যময় পাঠ-পরামর্শ:

আপনি যদি বাংলা বইয়ের অনুরাগী হন, তাহলে কস্তুরী খুব সহজেই হয়ে উঠতে পারেন আপনার প্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি শুধু বাংলা সাহিত্য নিয়েই কথা বলেন না; বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে পাঠকদের বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর বইয়ের সুপারিশে থাকে নানা ঋতু, অনুভূতি ও মনের আবহ। বসন্তের হালকা মেজাজের কোনও বই, প্রেমের অনুভূতির সঙ্গে মানানসই রোম্যান্টিক গল্প কিংবা মনখারাপের দিনে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কোনও আখ্যান—প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য তাঁর কাছে থাকে উপযুক্ত বইয়ের পরামর্শ।

মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী জ্যোতি রায়ের নজরে বইয়ের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও:

মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী জ্যোতি রায় বইকে দেখেন এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। বইয়ের রিভিউ ও সুপারিশের পাশাপাশি তিনি জানান কোন সাহিত্য উৎসবে অংশ নেওয়া যেতে পারে, কোন বইয়ের দোকান বইপ্রেমীদের ভালো লাগতে পারে এবং কোন আরামদায়ক ক্যাফেগুলি পড়াশোনার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। তাঁর কনটেন্টে আরও জায়গা পায় জার্নালিংয়ের মতো মননশীল অভ্যাস এবং মানসিক সুস্থতা গড়ে তুলতে সহায়ক নানা কর্মকাণ্ড।

বইয়ের সুপারিশের বাইরেও নানা সৃজনশীল কনটেন্টে ভরপুর শ্রুতর্ষি ঘোষের পেজ:

এএসএমআর (ASMR) ধাঁচের আনবক্সিং ভিডিও থেকে শুরু করে বুকশেলফ গোছানোর নানা টিপস—শ্রুতর্ষি ঘোষের পেজে রয়েছে বইয়ের সুপারিশ ও ছোট ছোট রিভিউয়ের বাইরেও অনেক বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট, যা বইপ্রেমীদের সমানভাবে আকর্ষণ করে।

পাঠের পাশাপাশি সাহিত্য-আলোচনা ও সচেতনতাকেও গুরুত্ব দেন বন্দনা:

বন্দনার কাছে বুকস্টাগ্রাম শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, বরং সাহিত্যকে ঘিরে অর্থবহ আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নিজের প্রিয় বইগুলির কথা শেয়ার করার পাশাপাশি তিনি বইয়ের পাইরেসির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সচেতনতা গড়ে তোলেন। তাঁর পাঠকসমাজের সঙ্গে তিনি ভাগ করে নেন প্রিয় বইয়ের স্মরণীয় উদ্ধৃতি। পাশাপাশি, সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য নিয়মিত প্রকাশ করেন তাঁর নিজের লেখা কবিতাও।