বিধাননগর পুরসভার উদ্যোগে ২০২৬-এর শুরুতেই বড় বদল — ফুটবল টার্ফ, স্কেটিং রিঙ্ক, জুম্বা জোন থেকে পেট পার্ক, নতুন সাজে শহরের এক অনন্য জনপরিসর।
এ যেন “ছিল রুমাল হয়ে গেল বিড়াল..” এর মত কাহিনি।
কলকাতার ভিআইপি রোডে জোড়ামন্দির মোড়ের কাছে বাগুইআটি ফ্লাইওভারের নীচের অংশ, যা একসময় ছিল আবর্জনার স্তূপ, ২০২৬ সালের শুরুতে বিধাননগর পুরসভার(BMC) উদ্যোগে সম্পূর্ণ নতুন রূপ পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০০ মিটার বিস্তৃত এই এলাকা একটি ‘ভাইরাল’ পাবলিক রিক্রিয়েশন জোন ও স্পোর্টস হাবে পরিণত হয়েছে।
এই এলাকায় তৈরি হয়েছে পেশাদার মানের কৃত্রিম ঘাসের টার্ফ, যেখানে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা যায়। পাশাপাশি রয়েছে স্কেটিং রিঙ্ক, জুম্বার জন্য নির্দিষ্ট জোন, পোষ্যদের জন্য পেট পার্ক এবং দাবা খেলার ক্লাব।
পাশাপাশি হয়েছে সৌন্দর্যায়ন-এর কাজও।
ফ্লাইওভারের নীচে থাকা ৩৫টিরও বেশি স্তম্ভ নতুন করে সাজানো হয়েছে আলপনা, টেরাকোটা শিল্প এবং রঙিন ম্যুরালে।
আগে যেখানে অবৈধ দোকান ও দখলদারি ছিল, এখন সেখানে শিল্পসমৃদ্ধ ও নান্দনিক পরিবেশ।
সম্পূর্ণ এলাকা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত। বসার জায়গা (স্ট্রিট ফার্নিচার) ও সবুজায়ন যুক্ত হয়েছে। ইউ-টার্ন পয়েন্টের কাছে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে টার্ফে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছু কিছু পরিষেবা বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।
এই সৌন্দর্যায়ন ও পুনর্গঠন প্রকল্পে প্রায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা।
ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগ ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। যদিও নিরাপত্তা ও ট্রাফিক সংক্রান্ত দ্বিধা আছে।
প্রসঙ্গত: ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর, রঘুনাথপুর থেকে কলকাতার দিকে আসার সময় একটি সেনাবাহিনীর বাস বাগুইআটি ফ্লাইওভারের হাইট ব্যারিয়ারে ধাক্কা মারে। এর ফলে ব্যারিয়ারটি ভেঙে পড়ে অন্যদিকের একটি চলন্ত অ্যাপ ক্যাবের উপর। যদিও ক্যাব চালক প্রাণে বেঁচে যান তবু রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ আছে এলাকায়। ফলে যদিও এই নতুন সৌন্দর্যায়ন প্রশংসিত হয়েছে, তবু কিছু বাসিন্দা নতুন করে তৈরি হওয়া এই পরিকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই প্রকল্পটি শহরের বিভিন্ন ফ্লাইওভারের নিচের জায়গাকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। মুম্বই ও ইন্দোরের অনুরূপ প্রকল্পের আদলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে নাগেরবাজার এলাকাতেও একই ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে।
এই রূপান্তর শুধু একটি পরিকাঠামোগত পরিবর্তন নয়, বরং শহরের অব্যবহৃত স্থানকে জনকল্যাণে কাজে লাগানোর এক সফল উদাহরণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


