Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

K-CAP : কলকাতার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পুরসভার নতুন দিশা

শহর কলকাতার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে কলকাতা পুরসভা। প্যারিস চুক্তির বিজ্ঞান-ভিত্তিক, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লক্ষ্য পূরণের জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখাই এর উদ্দেশ্য।

জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান যুগে, বিশ্বজুড়ে শহরগুলি, বিশেষ করে শহুরে গরিবদের আবাসস্থল বেশি থাকা শহরগুলি, বিপর্যয়ের মুখে তাদের বাসিন্দাদের সুস্থতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বারংবার দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। সে কথা মাথায় রেখে শহরবাসী এবং কর্মরত মানুষদের, বিশেষ করে দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণদের, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কার মোকাবিলা করে জীবনে এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই ‘কলকাতা ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান'(K-CAP)।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথাযথ পরিবেশ (Climate Innovation Ecosystem) তৈরির এই প্রয়াস, নগরের প্রতিরোধ ক্ষমতার দিকে জোর দিচ্ছে। যে ক্ষমতা হবে প্রযুক্তি ও নীতিনির্ভর। কলকাতা ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান (K-CAP) বন্যা ও তাপপ্রবাহ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি, আইআইএম কলকাতা ইনোভেশন পার্ক–এর সক্রিয় সহায়তায় ক্লিনটেক ও সুস্থায়ী উন্নয়নমূলক স্টার্টআপগুলিরও বিকাশ ঘটছে।

এছাড়াও WWF-ইন্ডিয়া, NITTTR কলকাতা-র মতো সংস্থাগুলি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, বর্জ্য থেকে সম্পদ সৃষ্টি (Waste-to-Value) এবং সবুজ পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একাধিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সামগ্রিক প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হলো কম-কার্বন, জলবায়ু সহনশীল ও সুস্থায়ী নগর উন্নয়ন। প্রধান উদ্যোগ ও অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে মোট ১৫টি ক্ষেত্র বেছে নেওয়া হয়েছে যাদের মধ্যে আছে

নগরের প্রতিরোধশক্তি (Urban Resilience) :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(AI) নির্ভর বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সমন্বয় এবং শীতলীকরণ কেন্দ্র(Cooling Centers) ও সবুজ পরিসর অন্তর্ভুক্ত করে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় হিট অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন—এই সবকিছুই নগরের প্রতিরোধশক্তি বৃদ্ধির অংশ।
ইনকিউবেশন ও অর্থায়ন:
আইআইএম কলকাতা ইনোভেশন পার্কের ৫০ কোটি টাকার তহবিল ক্লিন এনার্জি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে কাজ করা ক্লিনটেক ও সাসটেনেবল স্টার্টআপগুলিকে আর্থিক ও পরামর্শমূলক সহায়তা দিচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব সমাধান:
জৈব বর্জ্য থেকে বায়ো-সিএনজি উৎপাদন, বর্জ্য-ভিত্তিক নির্মাণ প্যানেল, এবং নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর মাইক্রো-গ্রিড—এই ধরনের উদ্ভাবনী সমাধানকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

নীতি ও অংশীদারিত্ব:
কলকাতা পুরসভা (KMC) UKAid-এর মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কম-কার্বন রোডম্যাপ, উন্নত শাসনব্যবস্থা এবং বিভিন্ন স্তরের অংশীদারদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

গবেষণা ও সম্মেলন:
NITTTR, IISWBM-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি জলবায়ু অর্থায়ন, সবুজ প্রযুক্তি এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে।

কমিউনিটি-কেন্দ্রিক উদ্যোগ:
তাপপ্রবাহ, বন্যা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট স্থানীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় জনগণকে সমবেত করে কমিউনিটি সহনশীলতা গড়ে তোলার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই কাজে সাহায্যকারী কিছু উল্লেখযোগ্য যেসব উদ্ভাবন ও স্টার্টআপদের কাজে লাগানো হচ্ছে, তারা হল:

বর্জ্য থেকে সম্পদ (Waste-to-Value):
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে নির্মাণযোগ্য প্যানেল তৈরি করছে রিক্রন প্যানেলস(Ricron Panels)।

জ্বালানি খাত:
জৈব বর্জ্য থেকে বায়ো-সিএনজি উৎপাদনে কার্বন মাস্টার্স (Carbon Masters), শক্তি-সাশ্রয়ী সিলিং ফ্যান উদ্ভাবনে অ্যাটমবার্গ(Atomberg) এবং নবায়নযোগ্য শক্তিভিত্তিক মাইক্রো-গ্রিড উন্নয়নে বেসিল এনার্জেটিকস(Basil Energetics) উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন:
কলকাতা ক্লাইমেট উইক-এর মতো ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় আবর্জনা সংগ্রহকারী নৌকা এবং নদীর জলের গুণমান পরীক্ষার প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে একাধিক স্টার্টআপ।

এই পুরো কর্মযজ্ঞে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও অংশীদাররা হল, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC), আইআইএম কলকাতা ইনোভেশন পার্ক (IIMCIP), আইসিএআর – এটিএআরআই (কৃষি), WWF-ইন্ডিয়া, NITTTR, কলকাতা, IISWBM, সেন্টার ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি (CGAPP)।

এই সমন্বিত উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কলকাতা ধীরে ধীরে একটি কম-কার্বন, জলবায়ু-সহনশীল ও ভবিষ্যতমুখী মহানগরী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে চলেছে।