Friday, September 25, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর-এ সামুদ্রিক বর্জ্য থেকে উঠে এল এক সমুদ্রঘোড়া

রবীন্দ্র সরোবরের প্রবেশদ্বারে এখন ১৫ ফুট উঁচু একটি সমুদ্রঘোড়া মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে—বিশ্বজুড়ে বহু বছর ধরে চলতে থাকা এক লড়াই, এক সামুদ্রিক বিপদের স্মারক চিহ্ন হিসেবে। এর গায়ে ঝলমল করছে সেইসব জিনিসের শেষ পরিণতি, যেগুলো আমরা একসময় ফেলে দিয়েছিলাম।
মুম্বই থেকে আগত এই ভ্রাম্যমাণ শিল্পকর্ম কলকাতায় এক নতুন জীবন পেল, যা সামুদ্রিক বর্জ্যকে রূপান্তরিত করেছে এক দৃষ্টিনন্দন সতর্কবার্তায়। যা জলদূষণের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ব্যখ্যা করে। মাছ ধরার জাল, প্লাস্টিকের টুকরো এবং ফেলে দেওয়া বিভিন্ন সামগ্রী মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ‘টাইড-টেলস: আ ফিনিক্স অব দ্য ওশান’।
এবছর প্রথমে মুম্বইয়ের কালা ঘোড়া আর্টস ফেস্টিভ্যাল-এ প্রদর্শিত হয় এই শিল্পকর্মটি। পরে এটিকে কলকাতায় আনা হয় এবং ইনার হুইল ক্লাব অব সেন্ট্রাল কলকাতা-র সহযোগিতায় নতুনভাবে সংস্কার করা হয়। এই সংগঠনটি নারীদের নেতৃত্বে, সামাজিক সেবা, বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে।
শিল্পকর্মটির নীচের অংশে ব্যবহৃত হয়েছে মেশিনের বর্জ্য তেলের দাগ, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়া দূষণের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
কাছ থেকে দেখলে এর টেক্সচার কিছুটা অস্বস্তিকর এবং সেটাই এর উদ্দেশ্য। কিন্তু দূর থেকে এর আকৃতি অত্যন্ত সুশ্রী। সমুদ্রঘোড়া—যাকে সামুদ্রিক জীবনে লড়াই করে টিকে থাকার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়—এখানে এক যথার্থ রূপক হয়ে উঠেছে। এটি একটি প্লাস্টিকমুক্ত জলাশয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও, বহন করছে শহরের বাইরের দূষিত সমুদ্রের ভার।

লিভিং ওয়াটারস মিউজিয়ামের সুকৃত সেন-এর ভাবনায় এবং শিল্পী ভ্যোম-এর হাতে নির্মিত এই কাজটি মানুষের দৃষ্টি ও মনন দুই-ই আকর্ষণ করে। “শিল্প মানুষকে এমন বাস্তবের দিকে দ্বিতীয়বার তাকাতে বাধ্য করতে পারে, যেগুলো তারা সাধারণত উপেক্ষা করে। যদি সেই এক মুহূর্তের থেমে যাওয়া দৃষ্টি আত্মদর্শণের ভাবনায় রূপ নেয়, তবেই শিল্প তার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে,” বলেন সেন।