এবছর ১২ নভেম্বর আদর্শ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য মিজোরামকে জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে। হরিয়ানার গুরগাঁও-এ অনুষ্ঠিত ১৮তম আরবান মোবিলিটি ইন্ডিয়া (ইউএমআই) সম্মেলনে এই সম্মান প্রদান করা হয় বলে মঙ্গলবার রাজ্য সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন দফতরের (ইউডি অ্যান্ড পিএ) সচিব লালমালসাওমা পাচুয়াউ এই পুরস্কার গ্রহণ করেন, কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল এবং প্রতিমন্ত্রী তোখান সাহুর হাত থেকে ।
এই পুরস্কার মিজোরামের উদ্ভাবনী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় এবং নাগরিকদের শৃঙ্খলাবোধের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে — যা রাজ্যের রাস্তাঘাটে যান চলাচলকে করেছে নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল। ইউডি অ্যান্ড পিএ-র টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং শাখা গত ১৬ অক্টোবর জাতীয় জুরির সামনে ভিডিও ও পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রাজ্যের উদ্যোগ উপস্থাপন করেছিল।
রাজধানী আইজল ইতিমধ্যেই “সাইলেন্ট সিটি” নামে পরিচিত — কারণ সেখানে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এবং যানবাহন চলে স্বনিয়ন্ত্রিত নিয়মে। চারচাকা গাড়ি চলে বাম দিকে, দুইচাকা ডান দিকে, ওভারটেক করা হয় না — ফলে সরু রাস্তাতেও ট্রাফিক চলে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে।

ছোট্ট পাহাড়ী শহর আইজল যার রাস্তাঘাট ও খুব অপ্রসস্থ সেই শহরে যানজট ও সাধারণ ঘটনা। কিন্তু সেই যানজট এ থাকেনা কোনও ওভারটেক এর তাড়াহুড়ো। থাকে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে যানবাহন পরিচালনা করা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আর নাগরিকদের প্রত্যক্ষ যোগদান ছাড়া এটা কখনই সম্ভব নয়।

তাই রাজ্য সরকার যথাযথ ভাবেই এই পুরস্কার উৎসর্গ করেছে মিজোরামের জনগণকে, তাঁদের নাগরিক সচেতনতা ও সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে।
এই সম্মান রাজ্যের গর্ব আরও বাড়িয়েছে, কারণ এর আগে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও মিজোরামের অনন্য ট্রাফিক শৃঙ্খলার প্রশংসা করেছিলেন।


