Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

ভারতের মানব-পরিচালিত শক্তিবিপ্লবের নমুনা দেখাচ্ছে কাসারগোড়ের এক স্কুলের রান্নাঘর

ভারতে পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তির রূপান্তর কি শুধুই কর্পোরেট বোর্ডরুম বা বিশাল সৌরবিদ্যুৎ পার্কের হাত ধরে এগোচ্ছে? সব সময় তা নয়।
কখনও কখনও সেই পরিবর্তনের শুরুটা হতে পারে সবচেয়ে সাধারণ, পরিচিত এক স্থানে—
যেমন ধরা যাক কেরালার কাসারগোড়ের একটি স্কুলের রান্নাঘরে, যেখানে আজ ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য সাম্বার রান্না হয় একেবারে শূন্য কার্বন নিঃসরণে।
এটাই এ.সি. কান্নান নাইয়ার মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট ইউপি স্কুলের অনন্য উদ্যোগের গল্প। আর এই প্রকল্পটি জাতীয় মানচিত্রে বিশেষত্ব অর্জন করেছে যে যে কারনে, আসুন দেখা যাক সেই প্রেক্ষাপটগুলো।


১. আর্থিক ও পরিবেশগত সাফল্যের যুগলবন্দি
এই রূপান্তরের আগে এলপিজি ও বিদ্যুতের খরচে স্কুলটির রান্নাঘরের মাসিক ব্যয় ছিল ১৫,০০০ টাকারও বেশি। সোলার-চালিত ব্যবস্থায় সেই ব্যয় নেমে এসেছে মাত্র ১,২০০ টাকায়—অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ সাশ্রয়।

২. শক্তিতে পূর্ণ স্বনির্ভরতা
স্কুল প্রাঙ্গণে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র শুধু রান্নাঘরকেই চালু রাখে না; উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরাসরি গ্রিডে যুক্ত হয়ে যায়। ফলে তৈরী হয় অতিরিক্ত আয়ের রাস্তা।

৩. মডেলটি দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে
এটি কোনও এককালীন পাইলট প্রকল্প নয়—এই মডেলটি ইতিমধ্যেই কেরালার ২,৫০০ আঙনওয়াড়িতে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে, ভারতের উন্নয়ন আজ এক নতুন দিশা পাচ্ছে—যা পুরোনো প্রচলিত ধারনা ভেঙে বিকেন্দ্রীকৃত, সমাজভিত্তিক, অর্থনৈতিকভাবে টেকসই এবং পরিবেশ-সচেতন পরিবেশ তৈরী করছে।
এইধরনের প্রকল্প দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশের সবুজ রূপান্তর আর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি নয়—এটি একেবারেই বর্তমানের বাস্তবতা, যা নীরবে শিকড় থেকে বদলে দিচ্ছে ভারতকে।