কৃষক পরিবারের মেয়ে থেকে ড্রোন প্রশিক্ষক, তারপর উদ্ভাবক — জোহো কর্পোরেশনের বিনিয়োগে ছোট শহরের স্টার্টআপ পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
তারা ফিরেছিলেন নিজের শহরে—স্থির জীবনের জন্য নয়, এক নতুন পথ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে। ইউরোপের ঝলমলে পেশাদার জীবন ছেড়ে তাঞ্জাভুরের মাটিতে নতুন সূচনা করেন অনুগ্রহা গণেশন ও তাঁর স্বামী দিনেশ বালুরাজ।

আজ তাঁদের তৈরি সংস্থা ‘ইয়ালি অ্যারোস্পেস’ ভারতের প্রযুক্তি জগতে এক উজ্জ্বল নাম, আর তাঁদের স্বপ্নে শক্তি জুগিয়েছেন জোহো কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু।
যখন এক সাংবাদিক সমালোচক প্রশ্ন তুলেছিলেন, “তাঞ্জাভুরে হাইটেক কোম্পানি সম্ভব?”—দিনেশ শান্ত গলায় পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন টাইমস অব ইন্ডিয়া-র সেই সাংবাদিককে “তাঞ্জাভুরের মানুষ কি শুধুই কৃষক হতে পারেন?”
এই এক বাক্যই যেন তাঁদের যাত্রার প্রতীক। দু’জনেই বাজি ধরেছিলেন নিজেদের সবকিছু—স্বপ্ন, সঞ্চয়, এমনকি অনুগ্রহার অলঙ্কারও।

বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের সামনে নিজেদের প্রযুক্তি উপস্থাপন করতে তিনি বন্ধক রেখেছিলেন নিজের গয়না।
এক কৃষক পরিবারের মেয়ে অনুগ্রহা গণেশন কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক। প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তাঁকে নিয়ে যায় এক ভিন্ন পথে—তিনি অর্জন করেন ডি.জি.সি.এ অনুমোদিত ড্রোন ইনস্ট্রাক্টর লাইসেন্স, যা দেশের গুটিকয়েক মহিলারই রয়েছে।
তাঁর স্বামী দিনেশের সঙ্গে মিলে পরিবারে এক নতুন অভ্যাস তৈরি হয়—সপ্তাহান্তে দুই সন্তানকে নিয়ে ড্রোন ওড়ানোর। শখটি ধীরে ধীরে মিশনে রূপ নেয়—জীবন বাঁচানোর মিশনে। আজ তাঁদের কোম্পানি ইয়ালি অ্যারোস্পেস ডিজাইন ও তৈরি করছে আধুনিক ভিটিওএল (VTOL) ফিক্সড-উইং ড্রোন, যা দ্রুত চিকিৎসা সামগ্রী, প্রতিস্থাপনের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও জরুরি সরবরাহ পৌঁছে দিতে পারে দুর্গম এলাকায়। প্রতিটি ড্রোন সর্বাধিক ৭ কিলোগ্রাম ওজন বহন করতে সক্ষম, উড়তে পারে ১৫০ কিলোমিটার, আর গতি তুলতে পারে ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।

শুধু ড্রোন নয়, তাঁরা তৈরি করেছেন একটি প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম—‘ইয়ালি নেটওয়ার্ক ব্রিজ’, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলে ২০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি সম্ভব। শ্রীধর ভেম্বুর বিনিয়োগ তাঁদের কাছে শুধু পুঁজির সংস্থান নয়, বরং এক প্রতীকী সম্মান।
এটি প্রমাণ করে, উন্নতির জন্য মেট্রো শহরে যাওয়া প্রয়োজন নয়—তাঞ্জাভুরের মতো ছোট শহর থেকেও বিশ্বমানের প্রযুক্তি উঠে আসতে পারে। আজ তাঞ্জাভুরের আকাশে উড়ছে শুধু ড্রোন নয়, উড়ছে এক প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস—যারা প্রমাণ করছে, স্বপ্নের ঠিকানা কোনো শহর নয়, সেটা নিজের ইচ্ছাশক্তি।


