স্বেচ্ছাসেবী ক্ষেত্র থেকে পথচলা শুরু করে পশ্চিমবঙ্গে বন্ধন – কোন্নগর প্রতিষ্ঠা। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সূচনা করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে আত্মনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক মর্যাদার পথে এগিয়ে দিয়েছেন চন্দ্রশেখর ঘোষ।
অভিজ্ঞ ব্যাঙ্কার এবং বন্ধন ব্যাংক -এর প্রাক্তন এমডি ও সিইও চন্দ্রশেখর ঘোষকে দেওয়া হল ‘গভর্নরস অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সেলেন্স — বন্দে মাতরম পুরস্কার ২০২৬’।
এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসে এই সম্মাননা তাঁর হাতে তুলে দেন রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবন এবং ভারতের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে পথিকৃৎ হিসেবে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি এই পুরস্কার। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবার পরিধি বিস্তারে এবং পরিষেবা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে তাঁর রূপান্তরমূলক ভূমিকারও স্বীকৃতি এটি।
তাঁর নেতৃত্বে বন্ধন ভারতের বৃহত্তম মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১৫ সালে তা রূপান্তরিত হয় একটি ইউনিভার্সাল ব্যাঙ্কে—যা ছিল দেশের প্রথম এমন প্রতিষ্ঠান এবং স্বাধীনতার পর পূর্ব ভারতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম নতুন ব্যাঙ্ক।
বর্তমানে চন্দ্রশেখর ঘোষ, বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিল (বিবিসি)-এর সভাপতি। শ্রী ঘোষের এই স্বীকৃতি প্রসঙ্গে নিজেদের পত্রিকায় বিবিসি জানিয়েছে: “ ‘বন্দে মাতরম পুরস্কার’ কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যকেই স্বীকৃতি দেয় না; এর অন্তর্নিহিত সামাজিক প্রভাবকেও তুলে ধরে—প্রান্তিক মানুষের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন এবং পরিবার ও সম্প্রদায় জুড়ে বহুগুণে কর্মসংস্থানের সৃজন।
বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের জন্য শ্রী ঘোষের এই সম্মান সমষ্টিগত গৌরবের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাঁর প্রাপ্তি পরিষদের সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে যে ব্যবসায়িক নেতৃত্ব ও সামাজিক উদ্দেশ্য পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, দীর্ঘদিনের জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় উদ্ভাবন উদ্যোগ কতটা কার্যকর হতে পারে”।


