Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

কলকাতা থেকে লন্ডন— বঙ্গতনয়া আসমা খাঁ-এর বিশ্বমঞ্চে উত্থানের অনন্য যাত্রা

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রচারের পর দার্জিলিং এক্সপ্রেস-এ রিজার্ভেশন পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। সিরিজটির ষষ্ঠ সিজনের থিম ছিল—“দ্য জার্নি হোম”—যেটি এমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়।

২০১৯ সালে বিজনেস ইনসাইডার তাঁকে প্রথম স্থানে রাখে, এমনকি ড্যানি ডিভিটো তাঁর রেস্তোরাঁয় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখান।

২০২০ সালের মার্চে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে দার্জিলিং এক্সপ্রেস বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি। বছর শেষে তিনি কোভেন্ট গার্ডেনে ১২০ আসনের নতুন জায়গায় টেস্টিং মেনু সহ রেস্তোরাঁটি পুনরায় চালু করেন। ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত এই শাখা চালু ছিল।

ছয় মাসের পেমব্রোক পপ-আপের পর তিনি আবার সোহো-র কিংলি কোর্টে নতুন ৯৬ আসনের রেস্তোরাঁ খোলেন—তাঁর প্রথম রেস্তোরাঁর পাশেই। ইউরোপের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক দক্ষিণ এশীয় নারী শেফ হিসেবে নিজের উপস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি সবসময়ই সোচ্চার।

৬ মার্চ ২০২৫ তিনি প্রকাশ করেন তাঁর তৃতীয় কুকবুক—Monsoon: Delicious Indian Recipes for Every Day and Season।

কিন্তু শুধুমাত্র ব্যবসা নয় বিভিন্ন মানবিক কাজ করে রান্নাঘরের বাইরেও এক বড় হৃদয়ের পরিচয় রেখেছেন আসমা।

রবিবারগুলোতে, যখন রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকে, আসমা উদীয়মান নারী শেফ ও উদ্যোক্তাদের জন্য তাঁর জায়গাটি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেন যাতে তারা নিজেদের সাপার ক্লাব আয়োজন করতে পারে।

সোহো-র পুরোনো দোকান ছাড়ার সময় তিনি বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে লিজের বাকি সময়টুকু সিরিয়ান শরণার্থী ইমাদ আলারনাবকে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন।

তাঁর রেস্তোরাঁর মাধ্যমে তিনি সেকেন্ড ডটারস ফান্ড—নামে একটি উদ্যোগ চালু করেছেন যেটি ভারতে দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম আনন্দ হিসেবে উদ্‌যাপন করে—পাড়াপড়শির মধ্যে মিষ্টির প্যাকেট বিলি করে।

২০১৯ সালে তার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি উত্তর ইরাকের এসিয়ান শরণার্থী শিবিরে আইসিস থেকে বাঁচিয়ে আনা নারীদের জন্য একটি মহিলা পরিচালিত ক্যাফে প্রতিষ্ঠা করেন।

২০২২ সালে তিনি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির যুক্তরাজ্যভিত্তিক Chef Advocate (WFP Goodwill Ambassador) হিসেবে নিযুক্ত হন, এবং অক্সফোর্ডের কুইন্স কলেজের সম্মানসূচক ফেলো নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তাঁর নাম ওঠে। একই বছরে তিনি গ্যাস্ট্রোনমিতে ‘নলেজ-এক্সচেঞ্জ’ এ অসাধারণ অবদানের জন্য জোহানেস ভ্যান ড্যাম পুরস্কার অর্জন করেন।

কলকাতার মেয়ে আসমা-এর খ্যাতির আকাশে উজ্জ্বল অবস্থান বাঙালী মহিলাদের উদ্যোক্তাদের কাছেও এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।