Wednesday, May 13, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

সত্যজিৎ রায় টোট, বিটলস মগ, পেট্রিকোর আতর—বইপাড়ায় বইয়ের বাইরের রত্নভাণ্ডার

কলেজ স্ট্রিট মানেই শুধু বই আর স্টেশনারির ভিড়—এমন ধারণা এখন পুরনো। এই চিরচেনা জায়গাটাই আসলে এখন একেবারে পপ-কালচারের মুডবোর্ড। পোশাক, হোম ডেকর থেকে সুগন্ধ—সবই বইয়ের দোকান আর খাবারের আড্ডার ফাঁকে লুকিয়ে দেবে নানান চমক।
একেবারে হঠাৎ করেই বই কিনতে গিয়ে ফিরতে পারেন শিল্পসম্মত একটি টোট ব্যাগ, কব্জিতে আতরের হালকা ছোঁয়া, আর নতুন কেনা বইয়ের পাতার ভাঁজে রাখা একটি অভিনব কাঠের বুকমার্ক নিয়ে।
কলেজের সারি সারি বাড়ি আর ভিড় জমা বইয়ের দোকানের মাঝখানে, বঙ্কিমচন্দ্র স্ট্রিটের ধারে এমন কিছু দোকানের দেখা মেলে যেখানে পাওয়া যায় তুলোর পোশাক, ব্যাগ আর ঘর সাজানোর জিনিসের অনন্য মেলবন্ধন।
এক ঝলকে দেখে নিন এসবের সম্ভাব্য তালিকা:
১. গল্প বলা সুতোয় বোনা পোশাক
প্যারামাউন্টের ঠিক উল্টো দিকের ফুটপাথে সারি সারি দোকানে সাজানো হালকা, আরামদায়ক গ্রীষ্মের তুলোর পোশাক। ক্রপ টপ, প্রিন্টেড কুর্তি থেকে শুরু করে অ্যাবস্ট্রাক্ট, ফ্লোরাল আর জ্যামিতিক নকশার ড্রেস—পছন্দের শেষ নেই। কাছেই আরেকটি দোকানে চোখে পড়ে আরও ফাঙ্কি আর ব্যতিক্রমী স্টাইল—ডেনিম জিন্স আর শর্টসে হাতের আঁকা মুখ, ফুল আর মজার ডুডল—যেন একেবারে ইন্ডি ছবির দৃশ্য।

২. কোমল মনের জন্য ছোট ছোট খুশি
কলেজ স্ট্রিটে মিলবে ছোট ছোট জিনিসের এক স্বর্গরাজ্য—যেগুলোর প্রয়োজন না থাকলেও লোভ সামলানো কঠিন। হাতে তৈরি কাঠের কী-চেন, কোস্টার, বুকমার্ক, ফ্রিজ ম্যাগনেট—প্রতিটিতেই আছে এক ধরনের রাস্টিক অথচ মায়াবী সৌন্দর্য, যা যান্ত্রিকভাবে তৈরি জিনিসে পাওয়া যায় না।



৩. সিরামিকের অনন্য জাদু

এখানে আছে সিরামিকের সম্ভারও। হাঁড়ি, কলস, কফি মগ, প্লেট ও অন্যান্য টেবিলওয়্যার—সবই ফুলেল নকশায় সজ্জিত। প্রতিটি জিনিস যেন ধীরগতির কলকাতার বিকেল আর ভালোবাসা মেশানো ঘরোয়া খাবারের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

৪. পরিধানে মুড, দৈনন্দিনে শিল্প
টি-শার্টে ছাপা ফসিলস, মোহিনের ঘোড়াগুলি, ঋত্বিক ঘটক, সত্যজিৎ রায় কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের পঙ্‌ক্তি—চোখ এড়ানো কঠিন। কলকাতার বাজার-থিমেও রয়েছে নানা ডিজাইন। প্রিন্টেড টোট ব্যাগগুলিও যেন ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন—প্রতিটি ব্যাগে লুকিয়ে থাকে নিজের এক টুকরো পরিচয়।

৫. সুগন্ধে নস্টালজিয়া, স্মৃতির মায়া
এই সবকিছুর মাঝেই হঠাৎ ভেসে আসে সুগন্ধের এক অদৃশ্য পথ। তা হতে পারে উড রোজ, জুঁই, পেট্রিকোর কিংবা নিছকই নস্টালজিয়া। ছোট ছোট বোতলে রাখা পারফিউম আর আতর সাজানো থাকে তাক বা ছোট বাটিতে—খোলার অপেক্ষায়। এক ফোঁটাতেই যেন ফিরে যান পুরনো দিনের বিয়েবাড়ি, ভুলে যাওয়া কোনও উৎসব বা স্মৃতির গহিনে লুকিয়ে থাকা এক মুহূর্তে।
৬. দেয়ালও বলুক আপনার কথা
শেষে, একাধিক দোকানে মিলবে আপনার ঘরের জন্য পোস্টার। দেব আনন্দ বা উত্তম কুমারের ছবির দৃশ্য, দ্য বিটলসের কনসার্ট, কিংবা চন্দ্রবিন্দু বা অনুপম দত্তর ক্যাজুয়াল জ্যাম সেশন—সবই এক জায়গায়।
এ যেন এক, পুরোমাত্রার জেন-z আয়োজন।
বই পাড়ায়, বই পড়ায় খানিক খান্তি দিয়ে কিছুসময়ের এই নান্দনিক ভ্রমণ চোখ, মন ও পকেটে আরাম দেবে এটুকু বলাই যায়।