Monday, June 29, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

জঙ্গলের মাঝে লাল পথ: বদলাচ্ছে ভারতের অভয়ারণ্যের সড়ক

কল্পনা করুন—ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎই রাস্তার রং বদলে গেল। কালো বা ধূসর নয়, টকটকে লাল।
গ্রাম ছাড়িয়ে রাঙা মাটির পথ হয় সে তো আমাদের জানা। তবে পাক্কা সড়ক ও যে রাঙা হয় তার পরিচয় ও সামনে আসছে ধীরে ধীরে। তবে এটা কোনো রং নয়। এটা একটি সতর্কবার্তা। আর এই সতর্কতাই হয়তো বাঁচাতে পারে কয়েকটি প্রাণ।

জব্বলপুর–ভোপাল সড়কের সেই অংশে, যেখানে জাতীয় সড়ক এসে মিশেছে নৌরাদেহি অভয়ারণ্যের বন্য হৃদয়ে, সেখানে জীবজন্তু আর মানুষের সহাবস্থানের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার।
ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া (NHAI) এই এলাকায় উজ্জ্বল লাল রঙের উঁচু ‘টেবিলটপ’ মার্কিং বসিয়েছে, যাতে চালকেরা বুঝতে পারেন—তাঁরা একটি সক্রিয় বন্যপ্রাণী অঞ্চলে প্রবেশ করছেন।
গাড়ির চাকা যখন এই উঁচু লাল অংশের উপর দিয়ে যায়, তখন হালকা কম্পন ও আচমকা রঙের পরিবর্তন চালকদের স্বাভাবিকভাবেই গতি কমাতে বাধ্য করে।

রাস্তায় এই ছোট্ট পরিবর্তনই হয়ে উঠছে হরিণ, শেয়াল, সাম্বর হরিণ এমনকি পথভ্রষ্ট বাঘের মতো বন্যপ্রাণীদের জন্য এক শক্তিশালী সুরক্ষাকবচ।

এই প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কাংশটি তীক্ষ্ণ বাঁক ও পাহাড়ি মোড়ের জন্য পরিচিত—এমন জায়গা, যেখানে হঠাৎ করেই প্রাণীদের সামনে চলে আসার আশঙ্কা থাকে। দুই পাশেই ৮ ফুট উঁচু বেড়া থাকা সত্ত্বেও, বন্যপ্রাণীরা বহুবার বাস্তব বিপদের মুখে পড়েছে।
নতুন এই লাল মার্কিংগুলো অতিরিক্ত এক স্তরের সচেতনতা তৈরি করছে। প্রতিটি চালককে মনে করিয়ে দিচ্ছে—এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি একটি জীবন্ত ভূ-প্রাকৃতিক দৃশ্যের মধ্য দিয়ে চলার পথ।
দীর্ঘদিন ধরে অভয়ারণ্যের ভিতরে বিছিয়ে থাকা জাতীয় সড়ক, রেলপথ এসবের মধ্যে দিয়ে যান চলাচল অনেক বন্যপ্রাণীর প্রাণহানির কারণ হয়েছে। সরকারের বন দফতরের চেষ্টায় বিভিন্ন স্হানে অ্যানিম্যাল করিডোর বানানো হয়েছে। চেষ্টা চলছে এলিভেটেড করিডোর বানানোর ও। কিন্তু এই সব কিছু যথেষ্ট ব্যয়বহুল এবং নির্মাণ কার্য পরিবেশবান্ধব নয়। বন্যপ্রাণীদের জন্য তো আরও হানিকর। সেক্ষেত্রে এই সতর্কতার রাঙা পথ যদি কার্যকরী হয় তাহলে ভবিষ্যতের জন্য বন্যপ্রানী আর মানবজাতির সহাবস্থানের এক আশাপ্রদ নজির তৈরী হবে।