লখনউ শহরের মেট্রোরেল যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি সবুজশক্তিবিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে।
সোলার প্যানেল থেকে চালিকা শক্তি নিয়ে আর রি-জেনারেটিভ ব্রেক সিস্টেম ব্যবহার করে বছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা সাশ্রয় করছে এই মেট্রোরেল। এর পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে এখন অবধি প্রায় ৪০ হাজার টনের অধিক পরিমাণ কার্বন নিষ্ক্রমণ রোধ করতে সক্ষম হয়েছে এই মেট্রো।
একনজরে দেখা যাক কী ভাবে….

১.সোলার পাওয়ার ব্যবহার : বিভিন্ন স্টেশন ও ডিপোতে ছড়িয়ে থাকা ১.৩২ মেগাওয়াট পাওয়ার যুক্ত সোলার প্যানেল থেকে লখনউ মেট্রোরেল ৮০ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা কয়েক হাজার বাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সমান।
২. ব্রেক থেকে বিনামূল্যের শক্তি : রি-জেনারেটিভ ব্রেক সিস্টেমের ব্যবহারের ফলে প্রতিবার ব্রেক মারার সাথে সাথে ৪৫% শক্তি পুনরুৎপন্ন হয়ে সিস্টেমে ফেরৎ যায় । যা কিনা প্রতিদিন ২০০০০ ইউনিট শক্তি বাঁচায়। অর্থাৎ শূন্য থেকে বিদ্যুত উৎপাদন করে।
৩. অন্যান্য গাডির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ : রোজ ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার অন্যান্য গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে বছরে ৬৭হাজার টন কার্বন নিষ্ক্রমণ কমাতে সাহায্য করছে এই ব্যবস্থা। যা প্রায় ৩ মিলিয়ন গাছ লাগানোর সমান।
এতসব পরিসংখ্যানের পিছনে যা আসলে লুকিয়ে আছে তা হল ভবিষ্যৎ ভারতের যাত্রাপথ।
সম্মিলিত উন্নয়ন: সাশ্রয়ী পরিবেশ বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা সর্বস্তরের মানুষের জন্যই এক সুখবর। জ্বালানির সাশ্রয় আর দূষণ প্রতিরোধ করে সমগ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের সহায়ক হতে পারে এই ব্যবস্থা।
পরিবেশ বান্ধব শহর গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এর অবদান অনস্বীকার্য। স্মার্ট পরিকাঠামো একাধারে পরিবেশ বান্ধব ও সাশ্রয়ী হলে অবশ্যই তা এই গ্রহের জন্য সুখবর।
লখনউ মেট্রোরেলের এই পরিমাপযোগ্য উন্নয়ন পরিকাঠামো কানপুর এবং আগ্রার মত শহরগুলোকেও অনুপ্রাণিত করছে এই পথ অনুসরণ করতে। খুব শীঘ্রই হয়তো সেখানেও জনপরিবহন ব্যবস্থায় সোলার পাওয়ারের ব্যবহার দেখা যাবে।
আপনার শহরে কবে চালু হবে এই ব্যবস্থা?


