Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

অবশেষে সফল ভারতের প্রথম ড্রোন নির্ভর কৃত্রিম বৃষ্টিপাত — রামগড় বাঁধ পুনরুজ্জীবনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ

এবছর সারাদেশের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খামখেয়ালি, যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বারবার। তবু গত জুলাই ও আগস্ট মাসে দিন ঠিক হওয়ার পরেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের অনুপস্থিতি সহ বিভিন্ন কারণে পিছোতে পিছোতে অবশেষে শুরু হল কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের পাইলট প্রকল্প।

মোট ৬০ টি ড্রোন, তিরিশ মিনিটের প্রচেষ্টায় .৮ মিমি বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে, ভারতের জলবায়ু প্রযুক্তির নতুন নিদর্শন সৃষ্টি করল।

একাধারে জলসংকট মোকাবিলা এবং কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণকে এগিয়ে নিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ভারত সরকার।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জয়পুরের রামগড় বাঁধে দেশের প্রথম ড্রোন–কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর মেঘ বপন(কৃত্রিম বৃষ্টি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। জলসম্পদ পুনরুজ্জীবন ও জলবায়ুর সহনশীলতা বাড়াতে এ উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এটি খরা–প্রবণ এলাকায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং জলসংকট হ্রাসে সহায়তা করবে।

প্রকল্পের বিবরণ ও অংশীদারিত্ব
এই পাইলট প্রকল্পটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে রাজস্থান সরকার এবং ভারত–মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা Genex AI। এতে ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট মেঘে রাসায়নিক ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানো হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও দুর্যোগ ত্রাণমন্ত্রী কিরোড়ি লাল মীনা এবং বিধায়ক মহেন্দ্র পাল মীনা। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও এতে অংশ নেন।
কেন রামগড় বাঁধ বেছে নেওয়া হলো?
১২৯ বছর ধরে এক বিরাট অঞ্চলের একক জলাধার হিসেবে থাকা রামগড় বাঁধ গত ২০ বছর ধরে শুকনো এবং ১৯৮১ সালের পর থেকে আর কখনও পূর্ণ হয়নি।
এই বাঁধ পুনরুজ্জীবিত হলে জয়পুরের পানীয় জলের যোগান বাড়বে এবং কৃষি ও স্থানীয় পরিবেশ উপকৃত হবে।
প্রথমে মানসাগর বাঁধকে বিবেচনা করা হলেও তার আকার ছোট এবং শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রামগড় বাঁধকে বেছে নেওয়া হয়।
রামগড় বাঁধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
১৮৯৭ সালে মহারাজা মাধো সিংহ দ্বিতীয় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯০৩ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ১৯৩১ সালে ভাইসরয় লর্ড আরউইন এখান থেকেই রাজপুতানার প্রথম পানীয় জল প্রকল্প উদ্বোধন করেন। ১৯৮২ এশিয়ান গেমসে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। জাম্বারামগড় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের প্রধান জলের উৎস হিসেবেও বাঁধটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

আরেকবার জেনে নেওয়া যাক ড্রোন –এআই ভিত্তিক মেঘ বপন প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে?
মেঘ বপন প্রক্রিয়ায় সিলভার আয়োডাইড এর মতো রাসায়নিক মেঘে ছড়ানো হয়। এগুলি ঘনীভবন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং জলীয় বাষ্পকে বৃষ্টিবিন্দুতে পরিণত করে। এই পরীক্ষায় তাইওয়ানে তৈরি ড্রোন হাজার হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে নির্দিষ্ট মেঘে সিলভার আয়োডাইড ছড়াবে, ফলে বৃষ্টিপাত ঘটবে ও বাঁধের জলের স্তর বৃদ্ধি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপের বহু দেশে ইতিমধ্যেই এ প্রযুক্তি খরা মোকাবিলায় ব্যবহার হচ্ছে।
রাজস্থানে পূর্বের প্রচেষ্টা এর আগে চিত্তৌড়গড়ের ঘোষুণ্ডা বাঁধে মেঘ বপনের চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হয়েছিল। তবে উন্নত এআই ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সফলতার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।