দিয়া লোকা, ১৭ বছরের এক তরুণী, যিনি এই বয়সেই হয়ে উঠেছেন পরিবেশ আন্দোলনের এক অগ্রদূত। যিনি ই-বর্জ্যকে সুযোগে রূপান্তরিত করছেন।
১৪ বছর বয়সে হায়দরাবাদের রাস্তায় হাঁটার সময় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত গ্যাজেট দেখে তাঁর মাথায় আসে ‘ই-সাইকেল’(E-Cycl)—এর আইডিয়া।
ই-সাইকেল, দিয়া লোকা ও তার স্কুলের বন্ধু সাহিতি রাধার একত্রে গঠন করা একটি সংস্থা, যা এখন একটি তরুণ প্রজন্মের-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

এই সংস্থা পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক বস্তু সংগ্রহ, তার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সেগুলোর পুনর্নবীকরণ এবং বিলিবন্টন করার কাজ করে।
মাত্র তিন বছরে, তিনি বিভিন্ন কম্যুনিটিকে একত্রিত করেছেন, শহরজুড়ে সংগ্রহ অভিযান চালিয়েছেন এবং ১০,০০০ কেজির বেশি ই-ওয়েস্ট সংগ্রহ করেছেন। তিনি ৫,০০০-রও বেশি সমমনস্ক স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং ১০টি দেশে ১৫০-রও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর একটি বড় দল গড়ে তুলেছেন।
সহানুভূতি ও দৃঢ় সংকল্প দ্বারা পরিচালিত হয়ে, দিয়া এবং তাঁর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাহিতি রাধা ফেলে দেওয়া যন্ত্রপাতি পুনর্নবীকরণ করেন এবং সেগুলো সরকারি স্কুলের শিশুদের উপহার দেন—যা একদিকে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করছে, অন্যদিকে শিশুদের বিপজ্জনক শিশুশ্রম থেকে রক্ষা করছে।

২০২৪ সালের ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হওয়ার পর, তাঁর উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বব্যাপী নজর কেড়েছে। মেটা, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ইউএনইপি, আইআইআইটি ও রিসাইক্যালএর মত বড় বড় সংস্থার থেকে সমর্থন পেয়েছে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এটি শুধুমাত্র একটি ই-ওয়েস্ট রিসাইক্লিং সংস্থা নয়—এটি তরুণ প্রজন্মের-নেতৃত্বাধীন ক্লাইমেট অ্যাকশন পদক্ষেপ। এটি সমমনস্ক কমিউনিটির ক্ষমতায়ন এবং সাসটেনেবল পরিবর্তনের গল্প, যা গড়ে উঠছে এই দুই নির্ভীক কিশোরীর নেতৃত্বে। এই অগাস্ট মাসে International Youth Day উদযাপনের আয়োজন সার্থক হয়ে ওঠে এই ধরনের একটি যোগ্য উদ্যোগের কাহিনি দিয়ে।


