Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

ভেসে ওঠা জলবাড়ি—বন্যার উত্তর এল বিহার থেকে

এবছর সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতি খুবই সংকটপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। প্রতিবছর বন্যার কবলে থাকা অসম, বাংলা, বিহারের বাইরে গিয়ে রাজস্থান, পঞ্জাব, হিমাচলের মতো জায়গাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক বেশি। ইঙ্গিত মিলছে ভবিষ্যত সমস্যার। এরই মাঝে দাঁড়িয়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছেন এক যুবক, আড়ার প্রশান্তকুমার সিং।

বন্যাকবলিত বিহারে, যেখানে প্রতি বছর অসংখ্য পরিবার সর্বস্ব হারায়, সেখানে প্রশান্ত লড়াই শুরু করেছিলেন বছর খানেক আগে। বালির বস্তা দিয়ে জল আটকে নয় বরং উদ্ভাবনের মাধ্যমে।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার থেকে শিল্পী হয়ে ওঠা এই যুবক বারবার নিজের ঘর নদীর জলে ভেসে যেতে দেখে নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, “ডুবে যাওয়া জমিতে কেন ঘর বানাব, যখন ভেসে ওঠা জলের ওপরেই ঘর বানানো যায়?”
এভাবেই গঙ্গার তীরে তৈরি হলো ভারতের প্রথম বন্যা-সহনশীল ভাসমান বাড়ি।
পুরোটাই বানানো হয়েছে স্থানীয়ভাবে পাওয়া প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে—গোবর, চুন, গুড়, ধানের তুঁষ, বাঁশ আর মাটি দিয়ে।

একটি ধাতব ফ্রেমের ভিতরে ফাঁকা ড্রাম ভরে তৈরি হয়েছে ৩০’×৩০’ এর ভাসমান প্ল্যাটফর্ম, তার ওপর গোবর,তুঁষ আর,মাটি ইত্যাদির ইকো ইঁট দিয়ে বানানো হয়েছে প্রায় ১০’×১০’ এর তিনটি ঘর,একটি রান্নাঘর ও একটি ড্রাই টয়লেট। যেখানে ছয় থেকে আটজনের একটি সাধারণ পরিবার স্বচ্ছন্দে বাস করতে পারবে।
ঘরটি পরিবেশবান্ধব, হালকা ওজনের এবং কার্বন-নেগেটিভ।

বন্যার সময় এই ঘর ভেসে থাকে। আবার গ্রীষ্মে শীতল ও শীতে উষ্ণ অর্থাৎ বাতানুকুল পরিবহ তৈরি করে, স্থানীয় আবহাওয়ার জন্য যা একেবারে উপযুক্ত নকশা।

আর কী কী বিশেষত্ব রয়েছে এই ভাসমান বাড়িতে?
১. পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ আসে ছাদে লাগানো সোলার প্যানেল থেকে, যা মোটামুটি ৭৩০ ওয়াট।
২. শুকনো(বায়ো) টয়লেট, যা বর্জ্যকে জৈবিক সার-এ রূপান্তরিত করে
৩. বাড়ির ভেতরে ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থাও আছে যা কিছুটা হলেও খাবারের জোগান দেবে।
এই স্বয়ংসম্পূর্ণ বাড়িটি প্রোটোটাইপ হিসেবে ২০২৪-এ তৈরি হয়েছে মাত্র ৬ লক্ষ টাকায়।
এখন প্রশান্ত চেষ্টা করছেন খরচ কমিয়ে ২ লক্ষ টাকায় আনার, যাতে বন্যাপ্রবণ এলাকার আরও অনেক পরিবার এই সুযোগ পায়।

ভোজপুরের ডেপুটি কালেক্টরের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কাজ নিয়ে এগিয়ে চলা প্রশান্ত এখন কিছু পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছেন।

এছাড়াও এই কাজে সাহায্যের জন্য তিনি ট্রেনিং দিচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিক, বেকার যুবক সহ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের।

পরিকল্পনা চলছে ভাসমান গ্রাম গড়ে তোলার।
প্রশান্তর সুদূর প্রসারিত পরিকল্পনার পরিমন্ডলে এখন যুক্ত হয়েছে সৌর,বায়ু ইত্যাদির থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতির ট্রেনিং আর পারমা কালচার, একোয়াপনিক্স ও হাইড্রাপনিক্স এর মত বিকল্প কৃষি পদ্ধতির ট্রেনিং দেওয়ার কাজও। যা নিজের গ্রামে থেকেই মানুষদের জীবিকার নিরাপত্তা দেবে।
পরিবেশ দূষণ, উষ্ণায়ণ ইত্যাদির বিপজ্জনক ইঙ্গিত অহরহ বিপদ সংকেত দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু পাশাপাশি উপযুক্ত উদাহরণের মাধ্যমে সচেতনতা ছড়াচ্ছেন প্রশান্তের মত নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবকরা।