উচ্চ বেতনের আইটির চাকরি ছেড়ে, একসময় প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন শ্রীকান্ত ও চার্মি মালদে। আজ তাঁরা হয়ে উঠেছেন এক সফল উদ্যোক্তা দম্পতি।
তাঁদের ব্র্যান্ড ‘গৌনীতি অর্গানিক্স’ শুধু আর্থিক সাফল্যই অর্জন করেনি, বরং তৈরি করেছে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতার নতুন দৃষ্টান্ত।
সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে উচ্চ বেতনে নামি আইটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন শ্রীকান্ত মালদে। কিন্তু সবকিছুর পর ‘জব-স্যাটিসফ্যাকশন’ থাকছিল অধরাই।
অপরদিকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চারমি শিক্ষকতা করছিলেন নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
২০১৪ সালে ক্যান্সারে বাবাকে হারান শ্রীকান্ত। সেই ধাক্কাই তাঁদের জীবন বদলে দেয়। দু’জনেই স্থির করেন, “আমরা চাই নির্মল, প্রাকৃতিক ও সচেতন জীবন।” এই সংকল্প থেকেই জন্ম নেয় ‘গৌনীতি অর্গানিক্স’।
প্রথমে মাত্র ৪টি গির গরু ও দৃঢ় মনোবল নিয়েই শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের লক্ষ্য ছিল অনেক বড়— একটি এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা লাভজনক হলেও নিষ্ঠুরতামুক্ত, নৈতিক এবং প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
আজ, ১৫০টি গির গরু, ২৫ জন টিম মেম্বার, ২৫টি পণ্য ও ২০০০ স্বাস্থ্য সচেতন গ্রাহক পরিবার সহ ‘গৌনীতি অর্গানিক্স’- একটি সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে।

এদের পণ্যের তালিকায় রয়েছে— এ২ দুধ, বিলোনা ঘি, মাখন, ঐতিহ্যবাহী ক্রিম থেকে তৈরি পনির, গোবর দিয়ে তৈরি আগরবাতি ও ধূপকাঠি। পাশাপাশি রয়েছে নিউট্রি বার ও লিপ বামের মতো স্বাস্থ্যকর পণ্য।
গরুদের দেওয়া হয় না কোনো হরমোন ইনজেকশন, খাওয়ানো হয় কেবল প্রাকৃতিক খাদ্য। নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও দুধ দোহনের পরই দ্রুত ঠান্ডা করার মাধ্যমে বজায় রাখা হয় সতেজতা।
“গৌনীতি” নামটি এসেছে নৈতিকতার প্রতিফলন থেকে। তাঁরা পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবহার করেন, কোনো শর্টকাটে বিশ্বাসী নন। অতিরিক্ত বাজার বান্ধব হওয়ার চেষ্টা নেই। তা সত্ত্বেও ২০২৪ আর্থিক বছরে তাঁদের টার্নওভার পৌঁছে যায় ২ কোটিতে।
তবে ‘গৌনীতি’-র সাফল্য কেবল টাকার অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এক বিশ্বাসের জয়— নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতার।
আজকের উপভোক্তারা খুঁজছেন বিশুদ্ধ ও পরিষ্কার পণ্য, আর সেই চাহিদাকে পূরণ করেছেন শ্রীকান্ত ও চার্মি, যা পরিণত হয়েছে এক আন্দোলনে।
শ্রীকান্ত ও চার্মি প্রমাণ করেছেন— ব্যবসায় সাফল্য কেবল মার্কেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে না। প্রয়োজন হয় মূল্যবোধ, অধ্যবসায় ও আন্তরিক প্রচেষ্টা।
আজ তাঁরা হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা। ছেড়ে দিয়েছেন উচ্চ বেতনের চাকরি, যুক্ত হয়েছেন কৃষি ও দুগ্ধচর্চায়। এর মাধ্যমে তাঁরা রক্ষা করেছেন শত শত গরু, উন্নত করেছেন হাজারো উপভোক্তার স্বাস্থ্য এবং জয় করেছেন লক্ষ মানুষের মন।


