কৃষিপ্রধান দেশ আমাদের এই বাংলা তথা ভারত। অনেক ক্ষেত্রেই সারা পৃথিবীর খাবার টেবিলে খাদ্য পৌঁছায় আমাদের দেশীয় খেত খামার থেকে। তবে এই কাজ মোটেও সোজা নয়… সফলভাবে ফসল ফলানোর রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কীট-পতঙ্গ, পশু-পাখির আক্রমণ।
তাহলে যখন কোনো কৃষকের সেরা ফসল বারবার নষ্ট হতে থাকে, তখন কী করেন ওঁরা?
চলুন জেনে নিই, এক কৃষকের জীবন থেকেই…
৪৯ বছর আগে, পশ্চিমবঙ্গের হুগলির এক তরুণ কৃষক, কৃষ্ণচন্দ্র হালদার, তাঁর প্রয়াত পিতার ছোট্ট জমি উত্তরাধিকার সূত্রে পান। তিনি লঙ্কা, আম, পেঁয়াজ এবং দেশি পেঁপে চাষ করতেন। কিন্তু শীঘ্রই আবিষ্কার করেন, তাঁর খেতের পেঁপে ফলটি রোগ-প্রবণ এবং ফলনও কম।
হতাশ না হয়ে, কৃষ্ণচন্দ্র শুরু করেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বারবার ট্রায়াল অ্যান্ড এরর পদ্ধতির মাধ্যমে, তিনি দেশি প্রজাতির সঙ্গে মিশিয়ে এক প্রকার হাইব্রিড পেঁপের জাত তৈরি করতে সক্ষম হন, যাতে প্রচুর ফল ধরে।
বছরের পর বছর ধৈর্য আর অধ্যয়নের ফল অবশেষে মেলে। তিনি উৎপাদন করতে সক্ষম হন এমন এক প্রজাতির যা একাধারে
১. উচ্চ ফলনশীল (১,৮৭৫ গাছ থেকে বছরে ৭৫ মেট্রিক টন পেঁপে)
২. রোগ প্রতিরোধী
৩. আধুনিক গৃহস্থালির জন্য একেবারে উপযুক্ত মাপের (৫০০–৭৫০ গ্রাম)
যদিও এই প্রজাতির এখনও নামকরণ হয়নি তবু শুধুমাত্র পেঁপে থেকেই সত্তর বছর বয়সে, কৃষ্ণচন্দ্র হালদারের এখন আয় বছর প্রতি ২২.৫ লক্ষ টাকা।
তিনি অন্যান্য কৃষকদেরও এই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেন এবং এখন তাঁর জেলায় শীর্ষ পেঁপে চাষিদের একজন হিসেবে তাঁর নাম নেওয়া হয়।
এই সব উদ্যমী কৃষকের জীবন কাহিনী খুবই আশাপ্রদ ভবিষ্যতের কথা বলে। আমাদের প্রয়োজন আরও আরও কৃষ্ণ চন্দ্রর।


