বিশ্বব্যাপী মৌমাছির সংখ্যা হ্রাস পাওয়া কৃষি বিজ্ঞানীদের কাছে এক চিন্তার বিষয়।
ক্রমশ কমতে থাকা বনাঞ্চল, আবাসস্থলের অভাব, অস্থিতিশীল কৃষি পদ্ধতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং যথেচ্ছ কীটনাশক ব্যবহার সহ বিভিন্ন কারণগুলির সংমিশ্রণে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীববৈচিত্র্যের অভাবের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মৌমাছি বহু বহু ফুলের পরাগায়ন করে ফল ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে।
এই সমস্যার সমাধান করে ফসলের পরাগায়নে সহায়তা করার জন্য রোবোটিক মৌমাছি তৈরি করেছে জাপান, যা বিশ্বব্যাপী মৌমাছির সংখ্যা হ্রাসের সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।
এই ক্ষুদ্র উড়ন্ত যন্ত্রগুলোতে ক্যামেরা, সেন্সর এবং আঠালো জেল দিয়ে আবৃত নরম ঘোড়ার লোম রয়েছে, যা প্রকৃত মৌমাছির প্রাকৃতিক পরাগায়ন প্রক্রিয়ার অনুকরণ করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে, এই ‘বী-বট’ গুলো ভিন্ন ভিন্ন ফুল শনাক্ত করতে পারে, পরাগ সংগ্রহ করতে পারে এবং তা দক্ষতার সাথে এক গাছ থেকে অন্য গাছে স্থানান্তর করতে পারে।
রোবোটিক মৌমাছিগুলো বর্তমানে গ্রিনহাউস এবং খোলা মাঠে পরীক্ষাধীন রয়েছে, যাতে ফল ও সবজির মতো ফসলগুলো যথাযথভাবে পরাগায়ন পায়, এমনকি প্রাকৃতিক মৌমাছির সংখ্যা কম থাকলেও। এর নকশা এমনভাবে তৈরি যা এগুলোকে হাল্কা ও সহজে ভেসে থাকায় সাহায্য করে পাশাপাশি জটিল ফুলের বিন্যাসের মধ্যে চলাচল করতেও সক্ষম করে তোলে, যা সূক্ষ্ণতম ফুল বা গাছপালার ক্ষতি করে না।
এই উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনকে সুরক্ষিত রাখার দিকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশেষত যেসব অঞ্চলে পরাগবাহী মৌমাছির ঘাটতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে সেইসব অঞ্চলের জন্য।
প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক নকশার সমন্বয়ে, কৃষিক্ষেত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় একাধারে ভবিষ্যতধর্মী এবং কার্যকর সমাধান দিতে চলেছে জাপান।


