বেঙ্গালুরুর গণেশ শানবাগ, পেশায় একজন সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর শহরের জলের সমস্যা তাকে বানিয়েছে ‘জলযোদ্ধা’।
বেঙ্গালুরু শহরেই যখন তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টের বোরওয়েল শুকিয়ে যায় এবং জলের ট্যাঙ্কারের বিল বাড়তে থাকে, তখন তিনি বৃষ্টির জল ব্যবহার করে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি তার ১০০টি ফ্ল্যাটের বেঙ্গালুরু কমপ্লেক্সে ৩ লক্ষ টাকারও কম খরচে বৃষ্টির জল সংগ্রহের ব্যবস্থা তৈরি করেন। মাত্র দুই মাসের মধ্যে, পুরো কমিউনিটি ট্যাঙ্কারের বিল বাবদ ২ লক্ষ টাকা সাশ্রয় করে।
গণেশ এক টাকাও নেননি—শুধু উপকরণের খরচটুকু নিতে হয়েছিল। বাসিন্দারা বিনামূল্যে গণেশের দক্ষতার ব্যবহার দেখতে পেয়েছিলেন এবং গণেশও তার সপ্তাহান্তের ছুটির দিনগুলোতে পুরো সিস্টেমটি ডিজাইন এবং ইনস্টল করার কাজটি করেছিলেন।
তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে, বেঙ্গালুরু জুড়ে ৩০০-রও বেশি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স গণেশের নির্দেশনায় একই রকম আর ডব্লিউ এইচ সিস্টেম গ্রহণ করেছে—ট্যাঙ্কারের কেনা জলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনরুদ্ধার করাই গণেশের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়। তার নকশা করা সিস্টেম এখন ছাদের বৃষ্টির জল ধরে রাখে এবং তা ফিল্টার করে পানীয় জলে রূপান্তরিত করে। বাকি জল ভূগর্ভস্থ জলাধারগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং ক্ষয়প্রাপ্ত জলাধারগুলিকে রিচার্জ করে।
কংক্রিটের জঙ্গল হয়ে যাওয়া শহরগুলোতে জল সংকট মেটানোর ক্ষেত্রে এর থেকে যথার্থ উপায় আর কিছু নেই। তামিলনাড়ু সরকার এক দশক আগেই শহরের সব জায়গাতেই রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং (RWH) বাধ্যতামূলক করেছে। এখন বাকিদের পালা।
যেসব শহরে জলের ঘাটতি বাড়ছে এবং জলের ট্যাঙ্কারের দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে নাগরিকদের নেতৃত্বে এই ধরনের উদ্যোগই একমাত্র কার্যকরী হয়ে উঠবে।
বেশিরভাগ মানুষ গণেশ শানবাগের লড়াই-এর এই গল্পটি জানে না।
কিন্তু এখন আপনি জানেন, তাই সময়মতো এই পথে চলার কথা ভাবতেই পারেন।


