যখনই জঙ্গলের আর জঙ্গলি জানোয়ার এর সংরক্ষণের কথা মাথায় আসে তখনই মাথায় আসে খাকি পোশাকে, এক হাতে গাদা বন্দুক, অন্য হাতে দূরবীন আর গামবুট পরা একদল মানুষদের কথা, যারা তাদের বহু বছরের অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে ঘন জঙ্গলে পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ান।
তবে বর্তমানে অসমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান, ২৬০০ গন্ডার নিয়ে যা ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডারের সর্ববৃহৎ চারনভূমি হিসেবে পরিচিত, সেখানে সংরক্ষণের প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছে সৌম্য সুদর্শন যন্ত্র পাখি ড্রোন।
ঠিক তাই, এখন আর শুধুমাত্র বিয়ের ছবি বা ভ্রমণের ছবি না…. ড্রোন এখন ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডারের সর্ব বৃহৎ চারণভূমিকে সংরক্ষণের একটি বড় হাতিয়ার।
গন্ডারের শৃঙ্গ এর জন্য চোরা শিকার কাজিরাঙার বহু বছরের দুশ্চিন্তার কারণ ছিল। পরিসংখ্যান বলে ২০০০ থেকে ২০২১ এর মধ্যে ১৯০টি চোরা শিকার হয়েছে, এর মধ্যে ২০১৩ -১৪ সালে মাত্র একবছরে যখন ২৭ টি চোরা শিকারের খবর আসে প্রশাসন নড়ে চড়ে বসে এবং পরীক্ষামূলক ভাবে ড্রোন এর ব্যবহার শুরু করে… বন দপ্তরের সতর্কতায় আর ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় ২০১৬ সালের মধ্যে চোরা শিকার ৪০% হ্রাস পায়। এরপর ২০১৭ সালে সরকারি ভাবে নজরদারির ক্ষেত্রে “unmanned aerial vehicle” হিসেবে ড্রোন এর ব্যবহার এর অনুমতি দেওয়ার পর চোরা শিকার ৮৬% কম করা সম্ভব হয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তিও শর্ট রেঞ্জ গ্যাজেট এর থেকে উন্নত হয়ে এখন থার্মাল imaging, রিয়েল টাইম ভিডিও স্ট্রিমিং ইত্যাদি প্রযুক্তির সহায়তায় এখন কাজিরাঙার জাতীয় উদ্যানে সব ধরণের সন্দেহজনক কার্যকলাপ জন্তুদের চলাচল, বেশি গভীর জঙ্গলে, যেখানে মানুষের পৌঁছানো অসম্ভব সেইসব জায়গায় জন্তু জানোয়ার দের ব্যবহার ইত্যাদি নজরদারি রাখা সম্ভবপর হয়েছে।
এছাড়াও প্রতিবছর বর্ষা কালে যখন কাজিরাঙার বন্যার জলে ভাসে সেই সময়ে জঙ্গলের চারটি রেঞ্জ এর ভিতরে জন্তু জানোয়ারদের পরিযান , অসুস্থ জন্তু ট্র্যাক করা… অন্যান্য সময়ে জঙ্গলে আগুন লাগার পরিস্থিতি , জন্তু-মানব সংঘাত রোধে, ভেজিটেশন ম্যাপিং- এর মত কাজে এই ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই ফলপ্রসু হয়েছে।
কাজিরাঙার এই সফল প্রয়োগ এর পর পশ্চিম বঙ্গের সুন্দরবন, কর্নাটক এর বান্দিপুরা, গুজরাটের গির অরণ্য , ছত্তিসগড়ের বন দফতরও এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে।
অতএব জাতীয় উদ্যান সংরক্ষণে ড্রোন প্রযুক্তি যে নতুন আশা জাগাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


