ভোরাই ডেস্ক: ভারতে তৈরি হলো বায়ো কিউরা ইঁট। এই ইট প্রতিটি বর্ষার হাত ধরে নিজেকে শক্তিশালী করে তুলতে সক্ষম।
অবাক হচ্ছেন??
আমাদের বেঙ্গালুরু শহরের বুকে, এই শতাব্দী প্রাচীন স্বপ্নকে সফল করে তুললেন একদল ইঞ্জিনিয়ার। উদ্ভাবন করলেন এমন এক বিল্ডিং মেটিরিয়াল যা নিজের সুশ্রূষা নিজেই করবে। এই ইঁটের নাম বায়ো কিউরা আর এটি কোনোভাবেই ফার্নেসে তৈরি নয়। বরং বলা যায় এরা প্রাণবন্ত (জীবিত)।
পাথরের গুঁড়ো, ফেলে দেওয়া ছাই আর জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার্ড ব্যাকটেরিয়াল নেটওয়ার্ক দিয়ে তৈরি এই বায়ো কিউরা আসলে জীবন্ত ইঁট।
প্রত্যেক ইঁটের ইউনিট এর মধ্যে থাকে স্পোরস, যা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে জল না পাওয়া পর্যন্ত। বৃষ্টির জল পেলেই এই মাইক্রোবসগুলো ক্যালসিয়াম কার্বোনেট তৈরি করতে শুরু করে। ঠিক যে ধরনের সিমেন্ট দিয়ে সমুদ্রের তলায় প্রবাল দিয়ে প্রাচীর(রীফ) তৈরি হয়, সেভাবেই।
ফলাফল ??
এই ইঁট শুধু পরিবেশের প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে তাই না, নিজেই নিজের ফুটো, ফাটল ইত্যাদিও ভরাট করে নেয়। কোনো ধরনের প্যাচ ওয়ার্ক, সিমেন্ট কিছুর দরকার নেই। শুধুমাত্র জীববিদ্যাকে কাজে লাগিয়েই এই অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেছেন এরা।
পাঁচ বছর ধরে চলা গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে বায়োকিউরা ৯৮% স্ট্রাকচারাল ইন্টেগ্রিটি রক্ষা করেছে, যেখানে সাধারণ সিমেন্ট ৬১% কাজ করে।
বায়োকিউরা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে কার্বনমুক্ত রাখে এবং ফার্নেস বা ইঁট ভাটায় তৈরি না হওয়ার জন্য ৮৫% এনার্জি সাশ্রয় করার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ হতে দেয় না।
ভারতের মত পরিবেশ দূষণে ভোগা, অতি বৃষ্টি, অনা বৃষ্টির দেশে, যেখানে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলাতে গৃহনির্মাণ শিল্পের বাড়বাড়ন্ত অনিবার্য, সেখানে এই উদ্ভাবনটি খুবই গভীর গরুত্বপূর্ণ।
কেরালা এবং মহারাষ্ট্রের নির্মাণ শিল্পের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলি বন্যা প্রবণ এলাকায় ইতিমধ্যেই এই ইঁটের ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন।
সেই দিন হয়তো আর দূরে নেই যেদিন আমাদের দেশে স্বয়ং সুশ্রূষাকারী শহর গড়ে উঠবে এই জীবন্ত ইঁট দিয়ে।


