Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

হাতে বোনা সিল্ক থেকে বিশ্ববাজার:বীরভূমের গ্রামীণ জীবিকায় নতুন অর্থনৈতিক রেশ

হাতের তাঁত, আধুনিক বিপণন আর ডিজিটাল সংযোগে বদলাচ্ছে বাংলার সিল্কের গল্প। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলা বহুদিন ধরেই সিল্ক উৎপাদনের জন্য পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘদিন এই শিল্প সীমাবদ্ধ ছিল স্থানীয় বাজার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। ফলে কারিগররা পরিশ্রম করেও ন্যায্য মূল্য পেতেন না। সেই ছবিটাই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে।
বীরভূমের সিল্ক এখন আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছচ্ছে, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নতুন বিপণন কৌশল ও ডিজিটাল সংযোগ।

কোভিড অতিমারি শেষের পর গত কয়েক বছরে কলকাতা ভিত্তিক ডিজাইনার, ই–কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে বীরভূম সিল্কের নতুন পরিচয় তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে আধুনিক ডিজাইনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তৈরি হচ্ছে শাড়ি, স্কার্ফ, ফ্যাব্রিক ও লাইফস্টাইল পণ্য। কারিগরদের জীবনে এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে।
আগে যেখানে একজন তাঁতি মাসে ৬–৭ হাজার টাকার বেশি আয় করতে পারতেন না, এখন অনেকের আয় বেড়ে হয়েছে ১২–১৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে বড় কথা, কাজের নিশ্চয়তা বেড়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে কলকাতার ডিজাইন হাবগুলো। তাঁরা গ্রামে গিয়ে তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন—রঙ নির্বাচন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ট্রেন্ড বোঝা। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়েছে।

একজন মহিলা তাঁতি বললেন, “আগে আমাদের কাজ কেউ চিনত না। এখন বিদেশ থেকে অর্ডার আসে। নিজের কাজের দাম বুঝতে শিখেছি।” এই আত্মসম্মানই গ্রামীণ অর্থনীতির সবচেয়ে বড় পুঁজি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাসটেইনেবল ফ্যাশনের একটি আদর্শ মডেল। কম বিদ্যুৎ ব্যবহার, প্রাকৃতিক রং, হাতে বোনা কাপড়—সবকিছুই পরিবেশবান্ধব। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা বাড়ছে।
তবে সমস্যা নেই, তা নয়। কাঁচামালের দামের ওঠানামা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়া—এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হলে আরও পরিকল্পনা দরকার। তবুও বর্তমান ট্রেন্ড আশাব্যঞ্জক।
বীরভূমের সিল্ক আজ শুধু একটি কাপড় নয়—এটি বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন গল্প, যা কলকাতা হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের দরবারে।

বাংলার রেশমে বোনা বালুচরি, স্বর্ণচরি, বিষ্ণুপুরি কাতানের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যকে বিশ্ববাজারে উচ্চস্হান অর্জন করতে হলে সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিগত সমস্ত স্তরের মানুষদের যৌথ সহযোগিতা আর পৃষ্ঠপোষকতার পরিবেশ গড়ে তোলা অতি প্রয়োজন।