কলকাতার মতো জনবহুল শহরে হাঁটার জায়গা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফুটপাথ দখল, যানজট, দূষণ—সব মিলিয়ে শহরের মানুষ হাঁটা থেকে সরে যাচ্ছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই নিউটাউনে চালু হয়েছে এক অভিনব উদ্যোগ—কার্বন–নিউট্রাল স্কাইওয়াক।
দূষণ কমাতে, স্বাস্থ্য বাড়াতে—শহুরে পরিকল্পনায় নতুন ভাবনার এই পরীক্ষামূলক আকাশ পথ নির্মাণ করেছে এক বেসরকারী নির্মাণ সংস্থা।
এটি শুধুমাত্র একটি পথ নয়, বরং ভবিষ্যতের শহর গঠনের একটি পরীক্ষামূলক মডেল। নিউটাউনের এই স্কাইওয়াক প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ। বলা হচ্ছে পৃথিবীর দীর্ঘ তম স্কাইওয়াক এটি। এটি তৈরি করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে হাঁটার সময় মানুষ যানবাহনের চাপ ও শব্দ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। স্কাইওয়াকের ছাদে বসানো হয়েছে সৌর প্যানেল, যা দিয়ে পুরো কাঠামোর বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো হচ্ছে। রাতে আলো জ্বলে সৌরশক্তিতেই।
এই স্কাইওয়াকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবেশবান্ধব নকশা। বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য রেইনওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম রয়েছে। সেই জল ব্যবহার করা হয় গাছপালা ও ছাদ–বাগানের জন্য। ফলে এটি শুধু হাঁটার পথ নয়, বরং এক ধরনের উঁচু সবুজ করিডর।
প্রতিদিন বেশ কিছু মানুষ এই স্কাইওয়াক ব্যবহার করছেন—অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, বয়স্ক নাগরিক। অনেকের মতে, এটি শহরে হাঁটার অভ্যাস ফিরিয়ে আনছে। এক নিয়মিত ব্যবহারকারী বলেন, “আগে এই অঞ্চলের রাস্তায় হাঁটতে ভয় লাগত। এখন নিরাপদে, দূষণ ছাড়া হাঁটতে পারি।”
হাঁটার রাস্তা ছাড়াও এখানে আছে জগিং ট্র্যাক, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, বয়স্কদের বসার জায়গা, আড্ডার জায়গা, সাজানো বাগান এবং বড় টেলিস্কোপ সহ মহাকাশ দেখার ডেক।
শহর পরিকল্পনাবিদদের মতে, যদি এই ধরনের স্কাইওয়াক শহরের অন্যান্য অংশেও তৈরি করা যায়, তাহলে গাড়ির উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ কমবে, জনস্বাস্থ্য উন্নত হবে।
তবে সমালোচনাও রয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি সবার জন্য?
অবশ্যই ব্যক্তিগত, বেসরকারি মালিকানার পরিসরে নির্মিত এই স্কাইওয়াক খুব কম সংখ্যক মানুষের দ্বারাই ব্যবহৃত হবে। তবুও এই নির্মাণ ভবিষ্যতের বহু নির্মাণকে প্রভাবিত করতে, পথ দেখাতে সক্ষম হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের স্কাইওয়াকে লিফট ইত্যাদির মাধ্যমে প্রবেশ পথের ব্যবস্থা সহজ এবং আরও উন্নত করা দরকার, যাতে বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষও সমানভাবে উপকৃত হন।
নিউটাউনের কার্বন–নিউট্রাল স্কাইওয়াক একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—শহর কেবল গাড়ির জন্য নয়, মানুষের জন্যও।
যত বেশি এধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বেশি সংখ্যক মানুষের জন্য দূষণহীন হাঁটার জায়গা তৈরি হবে, শহরও আরও মানবিক হয়ে ওঠবে।


