Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ: শীতাতপ নিয়ন্ত্রকই এখন স্মার্ট এয়ার পিউরিফায়ার! খরচ ১০০ গুণ কম

বেঙ্গালুরু শহরের এক স্টার্টআপ ‘ক্লেয়ারকো’ (Clairco), প্রতিষ্ঠাতা আয়ুষ ঝা এমন এক অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যা সাধারণ বাণিজ্যিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রককে (এয়ার কন্ডিশনার) রূপান্তর করছে স্মার্ট এয়ার পিউরিফায়ারে।

লো-ড্র্যাগ ন্যানো ফিল্টার ও আইওটি মনিটরিং সিস্টেমে তৈরি এই মেশিন প্রচলিত এয়ার পিউরিফিকেশন সিস্টেমের তুলনায় “১০০ গুণ সাশ্রয়ী” এবং অফিস, শপিং মল, মাল্টিপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বদ্ধ স্থানে সরবরাহ করছে বিশুদ্ধ বাতাস।

শুরুর গল্প
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সরকারি কর্মচারী কৌশল ঝা (৫৬) বদলি হয়ে দিল্লিতে কাজে যোগ দেন। দুই মাসের মধ্যেই তিনি বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা জানান, তীব্র বায়ুদূষণ তার ফুসফুসের ক্ষতি করেছে।


ছেলে আয়ুষ, তখন বেঙ্গালুরুতে চাকরিরত, তড়িঘড়ি দিল্লি ছুটে আসেন। তিনি বলেন,
“আমরা সবাই নিয়মিত ব্যায়াম করতাম, তবু দূষণের প্রভাবে বাবার ফুসফুস আক্রান্ত হয়। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন, হয় ব্যায়াম বন্ধ করো, নয়তো এয়ার পিউরিফায়ার কেনো অথবা দিল্লি ছেড়ে চলে যাও।”
শহর বদলানো সম্ভব না হওয়ায় তার পরিবার একটি এয়ার পিউরিফায়ার কেনে। কিন্তু আয়ুষ বুঝতে পারেন, তিন বেডরুমের ঘরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি যন্ত্র যথেষ্ট নয়।

কৌতূহল থেকেই তিনি পিউরিফায়ারের কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ শুরু করেন এবং আবিষ্কার করেন—“ভেতরে শুধু একটি ফ্যান ঘরের বাতাস টেনে নিচ্ছে, ফিল্টার দূষণ আটকে বাতাস ফের ঘরে ছাড়ছে— এতটাই সহজ!” বুঝলেন তিনি।

এ থেকেই জন্ম নেয় নতুন চিন্তা—যদি এই প্রযুক্তি এয়ার কন্ডিশনারে প্রয়োগ করা যায়?
“এসি-ও তো বাতাস টানে ও ছাড়ে। যদি সেটিই পরিষ্কার বাতাস দিতে পারে, কেমন হয়?”—ভাবলেন আয়ুষ। শুরু করলেন কাজ।

দূষণ সম্পর্কে সচেতন হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ব্যয়বহুল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে অনাগ্রহী ছিল। আয়ুষ জানান,
“৩ লক্ষ বর্গফুট জায়গার বাতাস বিশুদ্ধ করতে প্রায় ২ কোটি টাকা লাগে। তাই দরকার ছিল সাশ্রয়ী বিকল্প।”
তবে সাধারণ বাড়ির এসিতে পুরু ফিল্টার লাগালে কুলিং কমে যায়। তাই তিনি বেছে নেন সেন্ট্রাল কুলিং সিস্টেম–নির্ভর বাণিজ্যিক বাজার (B2B), যেখানে শক্তিশালী মেশিনে কাজ করা সহজ। লক্ষ্য হল—মল, মাল্টিপ্লেক্স, কর্পোরেট অফিস।


আইন পেশায় শিক্ষিত ও স্টার্টআপে অভিজ্ঞ আয়ুষ ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ক্লেয়ারকো’—Clean Air Company-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে গবেষণা শুরু করেন ও একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেন। প্রথমদিকে এক বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করলেও ২০১৯ সালের আগস্টে মূল্য সংক্রান্ত কারণে অংশীদারিত্ব ভেঙে যায়।
এর আগে, ২০১৯ সালের মে মাসে AngelList বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ফান্ড পান, যা দিয়ে নিজস্ব ফিল্টার উৎপাদন শুরু করেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে চূড়ান্ত পণ্য বাজারে আসে।
আয়ুষ জানান, ক্লেয়ারকোর লো-ড্র্যাগ ন্যানো ফিল্টার বাজারের অন্য সমাধানের তুলনায় “১০০ গুণ সস্তা”।
৩ লক্ষ বর্গফুট জায়গার জন্য যেখানে প্রচলিত ব্যবস্থায় খরচ হত ২ কোটি টাকা, সেখানে ক্লেয়ারকোর ফিল্টারে খরচ মাত্র ৩ লক্ষ টাকা।

কারণ, নতুন সিস্টেম বসানো নয়, বরং বিদ্যমান এসিতেই ফিল্টার রেট্রোফিট করা হচ্ছে—যার ফলে পারফরম্যান্স অপরিবর্তিত থাকে।

ফিল্টারটি ঘরের PM 10 ও PM 2.5 মান নিয়ন্ত্রণে রাখে—আয়ুষের দাবি, ঘরের বায়ুর দূষণমাত্রা আশেপাশের এলাকার তুলনায় ৯০ শতাংশ কম থাকে।

ক্লেয়ারকোর বিশেষত্ব—ফিল্টারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আইওটি মনিটরিং সিস্টেম, যা রিয়েল-টাইমে বাতাসের মান জানায় এবং ফিল্টার কখন বদলানো দরকার তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করে।
আয়ুষ বলেন, “আমরা শুধু বিশুদ্ধ বাতাসের প্রতিশ্রুতি দিই না—প্রমাণও দিই। নির্ধারিত মান অর্জিত না হলে সেই সময়ের জন্য আমরা কোনো চার্জ নিই না।”

কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ও কোম্পানি টিকে থাকতে ও ১১ কর্মীকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
“মহামারী মানুষকে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন করেছে। এতে আমাদের প্রযুক্তির চাহিদা বেড়েছে,” বলেন আয়ুষ।

২০২০ সালের জুন থেকে কোম্পানির মাসিক বৃদ্ধি ৩০ শতাংশ, প্রতি ত্রৈমাসিকে প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে নয়জন কর্পোরেট ও মল ক্লায়েন্টের মাধ্যমে দিল্লি-এনসিআর, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন বিশুদ্ধ বাতাস পাচ্ছেন।
মাসিক আয় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
এখন ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: দেশজুড়ে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ
শিগগিরই পুনে, চেন্নাই ও মুম্বাইতে নতুন ক্লায়েন্ট যুক্ত হবে বলে…