Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

ভিভান ও তাঁর ‘ঐক্য’ ১৬ বছর বয়সেই বদলে দিচ্ছে ভারতের ফ্যাশন জগৎ

ফ্যাশন মানেই কি কেবল গ্ল্যামার? হয়ত না।
তা হতে পারে সহানুভূতি, মর্যাদা আর অন্তর্ভুক্তির ভাষাও। আর সেটাই প্রমাণ করছে ১৬ বছরের তরুণ উদ্যোক্তা ভিভান বাজোরিয়া, যার ব্র্যান্ড ‘ঐক্য’ বদলে দিচ্ছে ভারতের ফ্যাশন শিল্পের ধারণা।

ভিভানের ভাবনার শুরু এক সাধারণ অথচ গভীর মুহূর্তে। একদিন তিনি দেখলেন, তাঁর দাদু শার্টের বোতাম লাগাতে কষ্ট পাচ্ছেন। সেদিনই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—যদি পোশাক এমনভাবে বানানো যায়, যাতে শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর বাধা হয়ে না দাঁড়ায়?

সেই ভাবনা থেকেই জন্ম ‘ঐক্য’র—একটি অ্যাডাপটিভ ক্লথিং লেবেল, যা বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি মানুষদের জন্য। বিবানের পোশাক শুধু আরামের নয়, তা এক অর্থে স্বাধীনতারও প্রতীক।

‘ঐক্য’র ডিজাইনে আছে উদ্ভাবন ও যত্নের নিখুঁত মিশ্রণ—ম্যাগনেটিক বোতাম, ভেলক্রো ক্লোজার, বিচ্ছিন্ন-যোগ্য হাতা এবং সংবেদনশীল ত্বকের উপযোগী নরম কাপড়, যা একসঙ্গে এনে দেয় আরাম ও মর্যাদা।
ভিভানের এই ব্র্যান্ড ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে দেশের মধ্যে।

মিট্টি ক্যাফে, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের দ্বারা পরিচালিত এই ক্যাফে’র কর্মীদের জন্য তৈরি তাদের বিশেষ ইউনিফর্ম তৈরী করেছে ‘ঐক্য’ যা উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

এছাড়া বিহার স্কুল অব যোগা’র সঙ্গে যৌথভাবে তারা তৈরি করেছে সহজে পরিধানযোগ্য যোগা পোশাক, যা শারীরিক সীমাবদ্ধতাসম্পন্ন অনুশীলনকারীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে মিলে অ্যাডাপটিভ পোষাকের সাহায্যে কর্মসংস্থানের কাজ করছে।

তবে ‘ঐক্য’ কেবল পোশাকের গল্প নয়। ভিভান শুরু করেছেন “ন্যানো-ঠেলা” কর্মসূচি, যেখানে তিনি ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের নিজেদের দর্জির দোকান বা ছোট রিটেল স্টল চালানোর প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিচ্ছেন। যার সাথে উদ্যোক্তাদের সৌরচালিত ঠেলা গাড়ির মাধ্যমে কম খরচায় দোকান চালু করার প্রশিক্ষণ ও দেওয়া হচ্ছে।
লক্ষ্য একটাই — “সহায়তা নয়, স্বনির্ভরতা।”

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ভিভান শুধু উদ্যোক্তা নন, তিনি একজন লেখক, বিতার্কিক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-উৎসাহী ও সঙ্গীতশিল্পীও।

তাঁর উদ্যোগ প্রমাণ করে, প্রযুক্তি ও মানবতার মেলবন্ধনে নতুন যুগের ফ্যাশন শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, হতে পারে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিকও।

শেষ পর্যন্ত, ভিভানের ‘ঐক্য’ আসলে এক পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গির নীরব ঘোষণা—
“ফ্যাশন মানুষের জন্য বদলাবে, মানুষকে ফ্যাশনের জন্য বদলাতে হবে না।”