Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

উৎসব শেষে রাত তিনটেয় জেগে উঠল শহর: ভোরের সূর্য দেখল পরিচ্ছন্ন ইন্দোরকে

দীপাবলি উৎসবের শেষ আলো যখন শহরের আকাশে নিভে গেছে, তখনই নিদ্রামগ্ন ইন্দোরের রাস্তায় জেগে উঠল একদল মানুষ, শুরু হল এক অন্যরকম উৎসব—পরিচ্ছন্নতার উৎসব।

রাত তিনটেয় যখন শহর ঘুমিয়ে, তখন ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমে পড়েন সেই অজানা নায়কেরা, যাঁদের হাতেই ইন্দোরের জৌলুস টিকে আছে বছরের পর বছর।

ভিড়ভাট্টায় ভরা বাজার, রাস্তার ধারের দোকানপাট, কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক পাড়া—কোনো অংশই বাদ যায়নি। শহরের ৬০০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ইন্টিগ্রেটেড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট এবং একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে সারারাত কাজ চালিয়ে গেলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল ট্রাক্টর, ৯০টি ডাম্পার, এবং ২৩টি আধুনিক স্যানিটেশন গাড়ির বহর, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে ময়লা বহন করেছে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে।
ভোর ৩টে থেকে ৬টার মধ্যে ১৪০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, আলাদা করে ৩৫ টন আতসবাজির বর্জ্য সংগ্রহ করে আলাদা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়।


সবকিছু তদারকিতে ছিলেন পৌরসভার ঊর্ধ্বতন আধিকারিক ও বিশেষ দল। শহরের প্রতিটি রাস্তা যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল।

“সবচেয়ে কঠিন ছিল ডাস্টবিন আর রাস্তার ধারের ময়লা পরিষ্কার করা,” বললেন ইন্দোরের মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গব। “কিন্তু দলগত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা এবং নাগরিকদের গর্বই আমাদের রাতটিকে সাফল্যের পথে নিয়ে গেছে। ইন্দোরের মানুষ পরিচ্ছন্নতাকে শুধু দায়িত্ব নয়, গর্বের প্রতীক হিসেবে দেখেন।”
ভারতের ‘মিলিয়ন প্লাস সিটিজ’-এর মধ্যে পরিচ্ছন্নতার দৌড়ে ২০১৬ সালে ইন্দোর ছিল ২৫ নম্বরে।
তারপর থেকে ২০২৫ পর্যন্ত টানা নয় বছর ধরে দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার শহর হিসেবে শীর্ষে থেকেছে এই শহর।


কীভাবে সম্ভব হল এই যাত্রা?
এই পরিবর্তন কোনো জাদুর ফল নয়—এটি এক দীর্ঘ অধ্যবসায়ের কাহিনি।
একদিকে শক্তিশালী পৌর প্রশাসন, অন্যদিকে উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ও নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে ইন্দোর গড়ে তুলেছে পরিচ্ছন্নতার এক কার্যকর ও সাসটেনেবল মডেল।
পরিচ্ছন্নতার মানে শুধু ঝাড়ু নয়—এ এক সংস্কৃতি। প্রতিদিন গড়ে ১১০০-১১৫০ টন কঠিন বর্জ্য জমা হয় শহরের রাস্তায় আর রাতারাতি তা পরিষ্কার করে প্রতি ভোরে পরিচ্ছন্ন শহর উপহার পান নাগরিকরা।
এর পিছনে শুধু পৌরসভা বা প্রশাসন নয়, আজে নাগরিক সচেতনতা আর দলগত অংশগ্রহণ।
ইন্দোর আজ প্রমাণ করেছে, পরিচ্ছন্নতা শুধু পৌরসভার কাজ নয়, এটি নাগরিকদের মানসিকতার প্রতিফলন।