Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

এক সপ্তাহে ২.৫ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ — পরিবেশ সচেতনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন ‘ভারত সোকা গাক্কাই’-এর

এক সপ্তাহে পরিবেশের জন্য ঐক্যবদ্ধ হল কলকাতা। আয়োজক শান্তি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সাসটেনেবল উন্নয়নে নিবেদিত সেচ্ছাসেবী সংস্থা ভারত সোকা গাক্কাই (বিএসজি)।

সম্প্রতি কলকাতায় এক সপ্তাহব্যাপী প্লাস্টিক সংগ্রহ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এই প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের ৭ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই উদ্যোগের সূচনা হয় ৬ অক্টোবরে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

সেই অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, পরিবেশকর্মী ও সাসটেনেবল উন্নয়নকর্মীরা একত্রিত হয়ে দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূনম জাজু (সাবেক সভাপতি ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক, সুইচঅন ফাউন্ডেশন; চেয়ারপার্সন, রিসোর্স রিকভারি)। তিনি বিএসজি-র তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “এই ধরনের নাগরিক উদ্যোগই ভবিষ্যতের পথ দেখায়।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন করুণা এ. সিং (রিজিওনাল ডিরেক্টর, এশিয়া – আর্থ ডে ফাউন্ডেশন) এবং ড. সুব্রত গুপ্ত, আইএএস (সাবেক সচিব, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রক ও সাবেক প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, আরবান ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন)।
বিগত দুই মাস ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা নিজেদের জীবনযাপনে প্লাস্টিক ব্যবহার কম করার সংকল্প নেন তার সাথেসাথে নিজেদের পরিবেশে জমা হওয়া প্লাস্টিক এর সঠিক প্রক্রিয়াকরণ এর দিকটাও গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি তারা তাদের প্রতিবেশী ও বৃহত্তর নাগরিক সমাজের মাঝেও এই বার্তা পৌঁছে দিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করেন।
এর ফলে মাত্র এক সপ্তাহে, বৃহত্তর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য ব্যক্তি ও পরিবার একত্রিত হয়ে প্রায় ২.৫ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত বর্জ্য স্থানীয় সংগ্রহকেন্দ্রে জমা দিয়ে নিবন্ধিত পুনর্ব্যবহার সহযোগীদের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে— সচেতন নাগরিকদের ছোট ছোট পদক্ষেপও পরিবেশ রক্ষায় বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পূনম জাজু বলেন, “ভারত সোকা গাক্কাই-এর মতো একটি সংগঠন তৃণমূল স্তরে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের নেতৃত্ব নিচ্ছে— এটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। কলকাতার প্লাস্টিক সংগ্রহ অভিযান কেবল বর্জ্য হ্রাসের প্রচেষ্টা নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতার বীজ বপনের এক মহৎ প্রয়াস।”
বিএসজি-র চেয়ারপার্সন ভি. গুপ্ত মন্তব্য করেন, “এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিল যে সাধারণ নাগরিকরাও যদি আন্তরিকতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে একত্রিত হন, তবে তারা অসাধারণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম। সম্মিলিত প্রচেষ্টার এই শক্তিই সমাজ ও পৃথিবীর জন্য রূপান্তরমূলক হতে পারে।”

কলকাতার এই উদ্যোগটি বিএসজি-র জাতীয় পর্যায়ের বৃহত্তর ক্যাম্পেন ‘সাসটেইনেবল হিউম্যান বিহেভিয়ার (এসএইচবি)’-এর অংশ— যা প্রতিদিনের সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে সবুজ ভবিষ্যতের আহ্বান জানায়।
২০২৩ সালের পর এটি এই সংস্থার তৃতীয় বৃহৎ প্লাস্টিক সংগ্রহ অভিযান; এর আগে দিল্লিতে ২৭ টন এবং মুম্বইয়ে ১০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
বিএসজি ভবিষ্যতে ভারতের আরও বহু শহরে এই আন্দোলন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। সংস্থার লক্ষ্য— দেশজুড়ে নাগরিকদের একত্রিত করে পরিচ্ছন্ন, প্লাস্টিকমুক্ত ও সাসটেনেবল ভারতের পথে অগ্রসর হওয়া।