আষাঢ়ের প্রথম দিনে বিরহী যক্ষ মেঘকে দূত হিসেবে পাঠায় তার প্রিয়তমর কাছে। বর্ষা আর বৃষ্টি নিয়ে এসব রোমান্টিসিজম সব জায়গাতেই ভুরি ভুরি….
এছাড়াও আমাদের নদীমাতৃক কৃষিপ্রধান দেশে বর্ষার প্রভাব অপরিসীম। বছর বছর কত প্রাণের যাওয়া আসা নির্ভর করে বৃষ্টিপাতের ওপর। ভাবুন তো এই বৃষ্টিপাত যদি আমার আপনার ইচ্ছাধীন হয় কখনও??
সেই দিন আর দূরে নেই। আই আই টি কানপুর আর ডি.জি.সি.এ-কে সাথে নিয়ে, আই.এম.ডি. পুণে খাস দিল্লির বুকে এই কাজ করতে চলেছে।
দিল্লিতে প্রথমবার হতে চলেছে কৃত্রিম বৃষ্টি! দিল্লির দূষণ একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যা জনজীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। তবে এবার এই সমস্যার সমাধানে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করা হচ্ছে! ক্লাউড সিডিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দিল্লিতে প্রথমবার কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হবে।
কীভাবে হবে তাহলে এই কাজ? বিমান থেকে মেঘের মধ্যে সোডিয়াম ক্লোরাইড বা সিলভার আয়োডাইড জাতীয় হাইগ্রোস্কোপিক পার্টিকল বা অ্যারোসল ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই অ্যারোসলগুলি মেঘের জলীয় বাষ্পকে ঘনীভূত হতে সাহায্য করবে এবং ফলস্বরূপ বৃষ্টিপাত হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ‘ক্লাউড সিডিং’ নামে পরিচিত। প্রাথমিকভাবে, এই কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চালানো হবে।
এই অভিনব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বায়ুদূষণ কমানো।
দিল্লির বায়ুর গুণগত মান প্রায়শই বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যায়, যা শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়। কৃত্রিম বৃষ্টি এই দূষণকারী কণাগুলিকে ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করবে, যার ফলে বাতাসের গুণমান উন্নত হবে এবং দিল্লিবাসীর জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হবে।
এই প্রকল্পটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ৪ঠা জুলাই থেকে ১১ই জুলাই এর মাঝে। ইতিমধ্যেই ডিজিসিএ র তরফে অতিরিক্ত ফান্ড অ্যালোকেশন সহ বিমানের গতিপথের ম্যাপিং থেকে শুরু করে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু বর্তমান সময়ে বর্ষার গতিবিধি ও বৃষ্টিপাতের পরিমাপের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির সময়কাল পিছিয়ে ৩০ আগস্ট থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যাতে পরীক্ষার উপযুক্ত ধরনের মেঘ এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য দুটোই সঠিক ভাবে পাওয়া যায়।
ক্লাউড সিডিং-এর কথা অনেকদিন থেকেই আলোচনায় আছে, এখন এর পরীক্ষামূলক রূপায়ণের দিকে তাকিয়ে সবাই। এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে দিল্লির আকাশকে পরিষ্কার করার দিকে একটি ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা এবং দূষণের বিরুদ্ধে একটি সাহসী পদক্ষেপ! দিল্লির বায়ুদূষণ মোকাবিলায় এক নতুন দিগন্ত!


