Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

মহাকাশের সাথে নিজেকে জুড়ে রাখুন, চলুন নবগ্রহ মন্দিরে

উত্তর পূর্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শহর গুয়াহাটি, আধুনিক দুনিয়ার সাথে পা মিলিয়ে চললেও ঐতিহ্যে অমলিন এই শহর।

শহরের প্রাণকেন্দ্রতে একাধিক অন্য রকম দেখার জায়গা আছে, তার একটি নবগ্রহ পাহাড়ের ওপর নবগ্রহ মন্দির। শিল পুখুরি বাস স্টপ থেকে একটা অটো রিক্সা নিয়ে চলে যেতে পারবেন এখানে। গাড়ি ভাড়া করতে পারলে তো কথাই নেই।

মন্দিরটির আবহ অনেকটা প্ল্যানেটোরিয়ামের মতো। এবং কোনোরকম মূর্তি পুজো হয় না। গ্রহের আকারে পাথরের স্থাপত্য আছে নয়টি। যেন এক বিশাল পাথুরে মহাকাশের গায়ে খোদাই করা আছে পাথুরে গ্রহগুলি। সেখানেই পুজোর ব্যবস্থা। বেশ অন্ধকার এই মন্দিরের গর্ভগৃহটি বহু প্রদীপের আলোয় আলকিত হয়ে থাকে। আর এই পরিবেশে মন্ত্রোচ্চারণ যেভাবে অনুরণন তোলে তা বেশ রোমহর্ষক। আর সঙ্গে আছে এক  মহাজাগতিক শূন্যতার অনুভুতি।

আবার অন্যদিক থেকে দেখতে গেলে, এই জায়গাটি আসলে বহু প্রাচীন সময় থেকেই জ্যোতিষ চর্চার কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত। নবগ্রহের যেখানে পূজা হয়, সেখানে স্বাভাবিক ভাবেই জ্যোতিষ শাস্ত্রের প্রসঙ্গ এসেই যায়, তাই এখানে মন্দিরের পাশাপাশি প্রথাগত ভাবে জ্যোতিষ চর্চার আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে।  সেখানে গুরু শিষ্য পরম্পরায় শিক্ষা গ্রহণের এবং প্রদানের প্রচলন আছে। শিক্ষান্তে এই মন্দিরে সেবাইতের কাজও পাওয়া যায়। আবার কেউ অন্য জায়গায় যেতে চাইলেও যেতে পারেন।

প্রাকৃতিক দিক থেকে দেখতে গেলে শহরের ঠিক মাঝামাঝি হওয়ায়, পাহাড়ের ওপর থেকে একাধারে গুয়াহাটি শহরের ভালো ভিউ পাওয়া যায়, আবার অন্যদিক থেকে ব্রহ্মপুত্রেরও ভিউ পাওয়া যায়। সবদিক দিয়ে দেখতে গেলে শহরের মধ্যে অথচ রোজের রোজনামচা থেকে মুক্তির এক জায়গা নবগ্রহ মন্দির আর পাহাড়।

গুয়াহাটি গেলে অবশ্যই মাথায় রাখবেন এখানে আসার কথা। সাবধান থাকবেন লাল মুখো(মলুয়া) বানরের উপদ্রব থেকে।

এরা আপনার সাথে প্রসাদ ভাগ করার জন্য সদা প্রস্তুত।

মন্দিরে ওঠার সিঁড়ির কাছে ডালা নিয়ে দোকানদারদের দেখা পাবেন রোজের পুজোর জন্য। এছাড়াও জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে বিশেষ পুজোর ব্যবস্থাও আছে এখানে।

তাহলে ঘুরতে ঘুরতে এক বিকেলে চলে যান নবগ্রহ পাহাড়ে…।

মৈত্রী মজুমদার