মৈত্রী মজুমদার: বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে ২৬৫-রও বেশি পড়ুয়ার অংশগ্রহণ; ১৭টি SDG বাস্তবায়নে দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পদক্ষেপের অঙ্গীকার
বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল—প্রতিটি মানুষকে একটি স্থিতিশীল ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলার কাজে নিজ নিজ জায়গা থেকে সক্রিয় হতে উৎসাহিত করা, অন্ধকারের পরিবর্তে ‘আশা’কে বেছে নেওয়া এবং এমন একটি সমাজ নির্মাণ করা, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একটি উদ্বোধনী পর্বের মধ্য দিয়ে। বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে। এরপর হয় কবিতা আবৃত্তি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক একটি কুইজ প্রতিযোগিতা।
এরপর বিদ্যালয়ের Business Club-এর সদস্যরা পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং নিয়ে একটি বিশেষ Business Pitch উপস্থাপন করে। সাধারণ ও সহজ ভাঁজ করার কৌশল ব্যবহার করে কীভাবে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং তৈরি করা সম্ভব, সেই বিষয়টিই উঠে আসে তাদের উপস্থাপনায়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল SOHA প্রদর্শনীর ২৭টি প্যানেল। বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাই এই সমস্ত প্যানেল উপস্থাপন করে এবং সেখানে তুলে ধরে কীভাবে একজন সাধারণ মানুষও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।
প্রদর্শনীটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা, প্রধান শিক্ষিকা, ২৬৫ জনেরও বেশি পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মীরা।
SOHA-র ২৭টি প্যানেলকে কেন্দ্র করে পড়ুয়ারা ব্যাখ্যা করে, একজন মানুষ কীভাবে নিজের চিন্তা ও দৈনন্দিন কাজের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের সূচনা করতে পারেন। এই পরিবর্তনের পথে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের কথা তুলে ধরা হয়—Inspire (অনুপ্রাণিত হওয়া), Learn (শেখা), Reflect (আত্মবিশ্লেষণ করা), Empower (অন্যকে ক্ষমতায়িত করা) এবং Act & Lead (পদক্ষেপ নেওয়া ও নেতৃত্ব দেওয়া)।
প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর ছাত্রীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত ভাগ করে নেয়। শুধু প্রদর্শনী থেকে শিক্ষা গ্রহণেই থেমে না থেকে, সেই শিক্ষার ভিত্তিতে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে অন্তত একটি করে কী পদক্ষেপ তারা নেবে, তা তারা লিখিত ভাবে জানায়।
অনেক পড়ুয়া পরিবেশকে আরও সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাখার উপায়, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সমস্ত ধরনের প্রাণের সুরক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করে।
পাশাপাশি তারা রাষ্ট্রসংঘের নির্দেশিত ১৭ টি Sustainable Development Goals (SDGs) বা টেকসই উন্নয়ন-এর লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কেও জানতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে এই লক্ষ্যগুলির বাস্তবায়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ, সে সম্পর্কেও তাদের মধ্যে তৈরি হয় নতুন উপলব্ধি।
SOHA প্রদর্শনীতে সমাজ ও নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ কীভাবে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারেন, সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন উদাহরণ পড়ুয়াদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
এই উদাহরণগুলির মাধ্যমে পড়ুয়ারা ‘Power of One’ বা ‘একজন মানুষের শক্তি’-র ধারণা সম্পর্কে আরও গভীর উপলব্ধি অর্জন করে। তাদের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি হয় যে, পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় কোনও প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের প্রয়োজন নেই—একজন মানুষের সচেতন উদ্যোগও পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
প্রদর্শনী শেষে পড়ুয়ারা নতুন আত্মবিশ্বাস এবং গভীর আনন্দ নিয়ে বেরিয়ে আসে।
পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বকে সামনে রেখে ২৯ জুলাই কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘Seeds of Hope and Action: Making the SDGs a Reality’ (SOHA) শীর্ষক এই বিশেষ প্রদর্শনী।
ভারত সোকা গাক্কাই (BSG), আর্থ চার্টার ইন্টারন্যাশনাল এবং সোকা গাক্কাই ইন্টারন্যাশনাল-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার মহাদেবী বিড়লা শিশু বিহার-এ।


