দুই বন্ধু রাজীব রাঠোর আর মেরউইন কৌতিনহো, অরুণাচলের বনাঞ্চলে ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন।
পূর্ব হিমালয়ের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ আর সবুজ জঙ্গলে ঘেরা প্রান্তিক এক গ্রাম, গান্ধিগ্রাম, ছিল তাদের গন্তব্য। এই গ্রামটি ইদু মিশমি আদিবাসীদের আস্তানা।
অত্যন্ত সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ হলেও বিদ্যুত পরিষেবার অভাবে এই গ্রামে রাত মানে অন্ধকার আর বাচ্চাদের পড়াশোনার সময় মানে ধোঁয়ায় ভরা ঘর কারণ গ্রামের মানুষেরা রাতে আলোর জন্য কাঠের আগুন ব্যবহার করতেন। পরের বছর ফিরে গিয়ে সেখানে তারা এক নীরব বিপ্লবের সূচনা করলেন। শুরু করলেন ‘বাত্তি প্রজেক্ট’।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে, সোলার প্যানেল, এলইডি বাল্ব, সুইচ, কেবল, চার্জ কন্ট্রোলার ইত্যাদি সম্বলিত একটি ‘বাত্তি-কিট’ ওরা সমস্ত ঘরে ঘরে সরবরাহ করতে শুরু করেন, যা পোর্টেবল এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০১২ সালে লোয়ার দিবাং ভ্যালি, ইস্ট কামেং-এর লাডা সার্কেল আলোকিত হয়ে উঠল। বাত্তি প্রজেক্ট এর আলো পৌঁছলো ২৯টি গ্রামের ২৭৩ টি ঘরে। সেই প্রথম এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শতাধিক পরিবারের মানুষ সূর্যাস্তের পর আলোর দেখা পেল।

কিন্তু এখানেই শেষ নয় ‘টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ’- এর সাথে সংযুক্ত হয়ে জুমুপানি গ্রামের ৫০ টি আবাসিক স্কুলেও আলো ও বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন রাজীব ও মেরউইন।
এক একটি ঘরকে আলোকিত করার খরচ ১০০০০ টাকা, তাই টাকা জোগাড়ের জন্য ২০১৫ সাল থেকে ই-বর্জ্য রিসাইকেল করা থেকে দশ দিনের ৩০০ কিমি সাইকেল যাত্রার ‘রাইড টু লাইট’ ইভেন্ট, এমনই নানা কিছু করেছেন তাঁরা।
উদ্দেশ্য ওই সব এলাকার আরও ১৫০০ ঘর আলোকিত করা।
এসব প্রত্যন্ত এলাকার ভূ-প্রকৃতি আর আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা সরকারি ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের অন্তরায়। সেক্ষেত্রে বাত্তি প্রজেক্ট এই এলাকার মানুষের জন্য এক স্বয়ংসম্পূর্ণ, পরিবেশ বান্ধব উপায়। হয়তো এইসব উপায়গুলির প্রয়োগ এখানকার যুবসম্প্রদায়কে শহরমুখী হওয়া থেকে বিরত থেকে নিজেদের এলাকার উন্নয়নের কাজে ব্রতী হতে উৎসাহিত করবে।

মেরউইন এবং রাজীব পাহাড়ের ওপরের ঘরবাড়ি আর স্কুলে সৌরশক্তিচালিত আলো নিয়ে এসেছিলেন আর তার সাথে এনেছিলেন এক আশার আলো।
যা শুরু হয়েছিল একটি ভ্রমণ হিসেবে তা এখন এক স্বপ্নের মিশন।
সহানুভুতিকে বিদ্যুতে পরিবর্তিত করার।


