Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

ঝাড়ুদার থেকে ব্যাঙ্কের শীর্ষ নেতৃত্ব — অদম্য লড়াইয়ে গড়া এক নারীর অনুপ্রেরণার ইতিহাস

অভাব, অপমান, বাধা— কিছুই থামাতে পারেনি তাঁর পথচলা।

পুনের দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম নেওয়া মেয়েটি জানত না, একদিন তাঁর নাম উচ্চারণ করবে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের করিডর। প্রতীক্ষা তোন্ডওয়ালকার— যিনি প্রমাণ করেছেন, ছোট শুরু মানেই ছোট গন্তব্য নয়।
মাত্র ষোলো বছর বয়সে সংসারের জোয়াল কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল তাঁকে। স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। বিয়ের পর কিছুদিনের মধ্যেই জীবনের চাকা থমকে যায়— বিশ বছর বয়সেই বিধবা হন প্রতীক্ষা, কোলে ছোট সন্তান, চারপাশে আর্থিক অনটন আর সামাজিক তাচ্ছিল্য।
তবুও মাথা নোয়াননি তিনি।


নিজের ভাগ্য নিজে গড়ার সংকল্পে পা রাখেন মুম্বইয়ের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার(এসবিআই) এক শাখায় ঝাড়ুদার হিসেবে। সকালে মেঝে মুছতেন, দুপুরে ধুলো ঝাড়তেন, সন্ধ্যায় ব্যাংকের প্রতিটি কোণ পরিষ্কার রাখতেন— আর রাতের নির্জনে বই তুলে নিতেন হাতে।

সেই খোলা-বই হাতে কাটানো রাতগুলোই বদলে দেয় তাঁর জীবন। অধ্যবসায় আর ধৈর্যের জোরে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন প্রতীক্ষা। ব্যাংকের সহকর্মীরা দেখতে পান, এই মহিলা কেবল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নয়, আত্মনির্মাণের প্রতীকও।

ধাপে ধাপে পদোন্নতি হতে থাকে প্রতীক্ষার— ঝাড়ুদার থেকে ক্লার্ক (২০০৪) তারপর অফিসার(২০২২)।
এই পথচলায় পাশে ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্বামী প্রমোদ তোন্ডওয়ালকর।

স্বামীর উৎসাহেই ব্যাংকের পরীক্ষা দেন তিনি। সংসার-সন্তানের যত্ন ও জীবনের লড়াই একসঙ্গে সামলেছেন। প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখে আরও দৃঢ় হয়ে উঠেছেন প্রতীক্ষা।

শেষমেশ, যে মহিলা একসময় ব্যাংকের মেঝে ঝাড়তেন, তিনিই উঠে আসেন ব্যাংকের নেতৃত্বে— পৌঁছোন সিজিএম (Chief General Manager) পদে, এরপর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (Assistant General Manager) হিসেবে।
আজ প্রতীক্ষা তোন্ডওয়ালকার শুধুই এক নাম নয়, এক প্রেরণা।