ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, ডা. বিজয়লক্ষ্মী দেশমানে।
কর্নাটকের এক দরিদ্র্য ও অশিক্ষিত পিতামাতার সন্তান হয়েও জীবনের তলানি থেকে শীর্ষে পৌঁছেছেন।
কালাবুরগি জেলার জেওয়ারগি তালুকের কোবাল গ্রামের বাসিন্দা ডা. বিজয়লক্ষী—পিতামাতার দারিদ্র্য ও অশিক্ষাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কর্মজীবনের শীর্ষে আরোহন করেন। এরই স্বীকৃতি হিসেবে এই বছর তিনি পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন।
দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডা. দেশমানে জানান, তিনি ২০০৪ সালে মর্যাদাপূর্ণ রাজ্যোৎসব পুরস্কার পেয়েছিলেন। সম্ভবত কালাবুরগি জেলার মুচি সমাজ থেকে পদ্মশ্রী পাওয়া তিনি-ই প্রথম।
তিনি বলেন, “পিতামাতার সমর্থন, নিজের কঠোর পরিশ্রম আর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপা আমাকে পথ দেখিয়েছে। আমার পিতামাতা অশিক্ষিত হলেও আমাদের ভালো শিক্ষাদান করার সংকল্প নিয়েছিলেন। আমরা আট ভাইবোন, তার মধ্যে ছয়জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। আমি সবচেয়ে বড়; এমবিবিএস ও এমএস সম্পন্ন করেছি। আমার ভাই কালাবুরগিতে প্র্যাকটিসিং আইনজীবী।”
ডা. দেশমানে ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা বাবুরাও দেশমানে ছিলেন এমএসকে মিলের শ্রমিক। মা রত্নম্মা সকালে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সবজি বিক্রি করতেন, পরে গাজিপুরা এলাকায় বসে সবজি বিক্রি চালিয়ে যেতেন।

তিনি জানান, গাজিপুরার চাক্কারগট্টা স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন এবং পরে গঙ্গাম্বিকা হাইস্কুলে কন্নড় মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা নেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে সবজি বিক্রিতেও সাহায্য করতেন, যা তিনি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন।
পাশাপাশি স্মরণ করেন মা-এর ত্যাগ এর কথা।
তিনি বলেন, “আমার বাবা শ্রমিক ছিলেন। অসুস্থ হলে ইএসআই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতেন। আমি পঞ্চম শ্রেণিতে থাকাকালীন থেকে এমবিবিএস শেষ করা পর্যন্ত বাবা আমাকে সার্জন হতে বলতেন। আমি এসবি রেসিডেনশিয়াল স্কুল থেকে পিইউসি দ্বিতীয় বর্ষ সম্পন্ন করি। কিন্তু এমবিবিএস-এ ভর্তি হওয়ার সময় আমরা আর্থিক সঙ্কটে পড়ি। তখন মা তাঁর মঙ্গলসূত্র বিক্রি করে কোর্স ফি শোধ করেছিলেন।”
“আমি কেএমসি থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৮৪ সালে বেল্লারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমএস সম্পন্ন করি। কোর্স শেষ হওয়ার পরপরই কিডওয়াই মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতালে রেসিডেন্ট ডাক্তার হিসেবে যোগ দিই। ১৯৯৪ সালে প্রথম মহিলা অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হই। পরে ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালক পদেও কাজ করেছি,” জানান তিনি।
২০১৬ সালে তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিজেপি নেতা অনন্তকুমার তাঁকে পাঞ্জাবের মোহালিতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ–এর প্রধান হিসেবে যোগদানের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমি এই পুরস্কার ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে উৎসর্গ করছি, কারণ আমি তাঁর ভক্ত।” তিনি আরও যোগ করেন, মানুষের সেবা করতে গিয়ে বিয়ে করেননি তিনি, কারণ মনে করেছেন এটি তাঁর জনসেবার পথে অন্তরায় হতে পারে।


