৬৫ বছর বয়সে মঞ্জাম্মা বি হারিয়েছিলেন তাঁর জীবনসঙ্গীকে—আর তাঁর সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছিল বহু দশকের পরিচিত জীবনের ছন্দ। এই শোক তাঁকে ঠেলে দেয় গভীর বিষণ্নতার দিকে। দিনগুলো হয়ে ওঠে ভারী, নীরব ও নিঃসঙ্গ।
২০১৮ সালে, সেই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে গিয়ে, কর্ণাটকের শিবামোগ্গা নিবাসী মঞ্জাম্মা নিয়েছিলেন একেবারে সাধারণ একটি সিদ্ধান্ত—তিনি জগিং শুরু করেছিলেন। সেই এক পা এগোনোই বদলে দিল সবকিছু। সাত বছর পর, ৭২ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে মঞ্জাম্মা আজ একজন সফল ক্রীড়াবিদ। জেলা, রাজ্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১১০টিরও বেশি পদক।
সর্বশেষ, চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ২৩-তম এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি—
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে নয়, মঞ্জাম্মার জন্য এই লড়াই ছিল বাড়তে থাকা বয়স, হারানোর যন্ত্রণা ও সমাজের প্রত্যাশার সঙ্গেও। ৩৬ বছর ধরে লেডি হেলথ ভিজিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মঞ্জাম্মা খেলাধুলার মধ্যেই আজ খুঁজে পেয়েছেন জীবনের নতুন অর্থ। এই পথে তাঁকে নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়েছেন তাঁর কন্যা, বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলি।
ট্র্যাক ইভেন্ট থেকে শুরু করে শটপুট, ডিসকাস, জ্যাভলিন ও রেস ওয়াকিং—একটির পর একটি বিভাগে নিজের সীমা ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে চলেছেন তিনি।


