২০২৫ সাল প্রায় শেষ। সারাটা বছর ঘটনার ঘনঘটা যেমন ছিল ঠিক তেমনই দেশের প্রশাসকদের কাজ ও প্রশংসার দাবি রেখেছে বহু ক্ষেত্রেই । এই আইএএস এবং আইএফএস কর্মকর্তারা শুধু তাঁদের দায়িত্বই পালন করেননি; তাঁরা বিভিন্ন কম্যুনিটিকে এবং সেখানকার মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছেন অনেকটাই। একজন আইএএস অফিসার যেখানে ‘মিশন সংকল্প’-এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ থেকে শিশুদের উদ্ধার করেছেন। একজন ডেপুটি কমিশনার আবার বন্যার সময় ৯০০-এরও বেশি জীবন বাঁচিয়েছেন। একজন আইএএস অফিসার ৫০ বছরের পুরোনো ১.৫৩ লক্ষ টন আবর্জনা অপসারণ করেছেন। বন্যা থেকে বন, শ্রেণিকক্ষ থেকে আবর্জনার স্তূপ পর্যন্ত, তাঁদের কাজ প্রমাণ করেছে যে সুদক্ষ জনসেবা বিশ্বকে বদলে দিতে পারে।

দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে এই অধিকর্তারা ২০২৫ সালকে একটি প্রভাব সৃষ্টিকারী বছরে পরিণত করতে কিছুটা অতিরিক্ত প্রচেষ্টা করেছেন :
আইএএস সৌম্যা ঝা, টঙ্ক, রাজস্থান: মাত্র ছয় সপ্তাহে, ‘পঢ়াই উইথ এ আই’ মডেল এর মাধ্যমে শিক্ষাপদ্ধতির ব্যক্তিগতকরণ, রিয়েল-টাইম সমস্যা সমাধান এবং ধারাবাহিকভাবে কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দশম শ্রেণির গণিতে পাসের হার ৯৬.৪%-এ উন্নীত করেছেন। তাঁর এই পরিমাপযোগ্য প্রশিক্ষণ মডেলটি যথোপযুক্ত প্রয়োগ সারা দেশের শিক্ষার উন্নতি ঘটাতে পারে।
আইএএস সিদ্ধার্থ জয়সওয়াল, সিপাহিজলা, ত্রিপুরা: জেলায় বাল্যবিবাহ বন্ধ করার লক্ষ্যে, তাঁর নেতৃত্বে ‘মিশন সংকল্প’ ইতিমধ্যেই ১০০-এরও বেশি শিশুকে উদ্ধার করেছে, ১০টি গ্রামকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করেছে এবং মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য স্কুল ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করেছে।

আইএএস ইন্দ্রজিৎ সিং, লখনউ, উত্তর প্রদেশ: তিনি পুরোনো আবর্জনার স্তূপকে একটি নেট-জিরো বর্জ্য শহরে পরিণত করেছেন, নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন, ১২,০০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ক্ষমতায়ন করেছেন এবং শহরটিকে “স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ” র্যাঙ্কিংয়ে ৪৪তম স্হান থেকে ৩য় স্থানে উন্নীত হতে সাহায্য করেছেন।
আইএএস অক্ষত ভার্মা, বারাণসী, উত্তর প্রদেশ: গঙ্গার ঘাট থেকে ফেলে দেওয়া কাপড়কে আয়ের সুযোগে রূপান্তরিত করে, তিনি স্থানীয় মহিলাদের সাথে মিলে তিনি ১ লক্ষ পরিবেশ-বান্ধব ব্যাগ তৈরি করেছেন, যা পরিবেশ দূষণ মোকাবেলা, ভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ বিধি প্রচারে সহায়ক হয়েছে।

সাক্ষী সাহনি অমৃতসর, পাঞ্জাব: অমৃতসরের প্রথম মহিলা ডেপুটি কমিশনার হিসেবে, তিনি একটি বিশাল বন্যা উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৯০০-এরও বেশি মানুষকে প্রাণে বাঁচান, সেনাবাহিনী এবং ত্রাণকর্মী দলগুলির সাথে সমন্বয় করেন এবং নিজের হাতে নেতৃত্ব দিয়ে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলিতে সাহায্য পৌঁছে দেন।
আইএএস প্রেম কৃষ্ণান এস পাঠানমথিত্তা, কেরালা: অনলাইন গেমে আসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, তার “আপনার স্ক্রিনের বদলে খেলাধুলাকে বেছে নিন” চ্যালেঞ্জ খেলার মাঠগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, শিশুদের ছুটির সময় বাইরে খেলতে উৎসাহিত করেছে এবং তরুণদের মধ্যে খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলেছে।
আইএফএস বরুণ জৈন, ছত্তিসগঢ়: এআই-চালিত সতর্কতা এবং পায়ে হেঁটে টহল এর রিয়েল-টাইম ট্র্যকিং ব্যবহার করে, এই অধিকর্তা মানুষ-হাতির সংঘাত কমিয়েছেন, জীবন বাঁচিয়েছেন এবং জনজাতি সম্প্রদায়গুলোকে বন্যপ্রাণীর সাথে নিরাপদ সহাবস্থানের দিকে পরিচালিত করেছেন।

আইএফএস ধর্মবীর দাইরু, পাঞ্জাব: এই অধিকর্তা তুঁত গাছ লাগানো, রেশম পোকা পালনের ঘর তৈরি এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ধার ব্লকে রেশম চাষকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রতি মরসুমে আয়কে ২৫,০০০ টাকায় উন্নীত করেছে, নারীদের ক্ষমতায়ন করেছে এবং জঙ্গলের সাথে জনজাতি সম্প্রদায়ের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে।
আইএএস প্রিয়াঙ্কা বালাসুন্দরম, তামিলনাড়ু: সরকারি সফরের সময় গ্রামবাসীদের এবং শিশুদের ব্যক্তিগতভাবে যত্ন নেওয়া থেকে শুরু করে সবার সাথে সম্মান ও উষ্ণতাপূর্ণ আচরণ করার মাধ্যমে তাঞ্জোরের এই ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর স্থানীয়দের মধ্যে “বিশ্বের সেরা কালেক্টর” উপাধি অর্জন করেছেন।

আইএএস স্বপ্নীল পল, আসাম: তিনসুকিয়ার “আবর্জনার যোদ্ধা” মাত্র এক বছরে ৫০ বছরের পুরোনো ১.৫৩ লক্ষ টন বর্জ্য পরিষ্কার করেছেন, আবর্জনার স্তূপকে ৫০ একর সবুজ স্থানে পরিণত করেছেন। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান, সাহস ও দূরদৃষ্টি দিয়ে এলাকার মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছেন।
নব প্রজন্মের এই অফিসাররা প্রমাণ করছেন ভাল কাজ করতে চাই শুধু ইচ্ছেটুকুই।


