কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট ও অধৈর্য গাড়ি চালকদের ভিড়ে এক নীরব মানুষ আজও অনুপ্রেরণা জোগান।
তিনি কৃষ্ণবিকাশ দত্ত, বয়স ৬১। অবসরপ্রাপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ার হলেও প্রতিদিন গড়িয়াহাট মোড়ে হাজির হন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে, কেবল শহরের প্রতি ভালোবাসা আর কর্তব্যবোধের জন্য।
ডোভার লেনের বাসিন্দা কৃষ্ণবাবু একসময় সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডে দায়িত্ব সামলাতেন। বাক্প্রতিবন্ধী হলেও তাঁর উপস্থিতি রাস্তায় সম্মান আদায় করে। পথচারী থেকে গাড়িচালক— সকলেই তাঁর ইশারায় নির্দ্বিধায় চলেন। কেউ কেউ করেন শুভেচ্ছা বিনিময়। গত বছর কলকাতা পুলিশ থেকে গর্বের সঙ্গে অবসর নিয়েছেন তিনি, তারপরও একদিনও কাজ কামাই করেননি।

অবসরের পর তিনি সরকারের কাছ থেকে কোনও নিয়মিত বেতন পান না, শুধু দুর্গাপুজোর সময় সামান্য পারিশ্রমিক মেলে।
ভ্রাতৃবধূ লীনা চক্রবর্তী জানান, “আমরা বারবার বলেছি পারিশ্রমিক না পেয়ে কেন এত পরিশ্রম করছেন। কিন্তু তিনি নিজের মতো করে বলেন— পুলিশের বিভাগই তাঁর পরিবার, তাঁদের সাহায্য ছাড়া তিনি থাকতে পারেন না।”
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা কৃষ্ণবিকাশ দত্ত কলকাতা পুলিশে সিভিক ভলান্টিয়ার পদ চালু হওয়ার দিন থেকেই কাজে যোগ দেন। আজও সেই দায়িত্ববোধ অটুট। পরিবারের দিক থেকেও তিনি আলাদা কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে। ছেলে কৃপেশ দত্তরায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র, ঠাকুমা-র সঙ্গে বাটায় থাকে। কৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রী অন্যত্র থাকলেও প্রতি সপ্তাহে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে যান।
দৈনন্দিন জীবনের সব চাপ সামলেও জনসেবার টানে আজও রাস্তায় দাঁড়ান তিনি। আশ্চর্যের বিষয়, যখন বহু সিভিক ভলান্টিয়ার নাগরিকদের বিরক্তির কারণ হন, তখন কৃষ্ণবিকাশ দত্ত দক্ষিণ কলকাতার রাস্তায় এক প্রিয় মুখ। নিয়মিত যাত্রী ও পথচারীরা তাঁকে চিনে নেন এবং তাঁর নীরব নিষ্ঠাকে সম্মান জানান।
কৃষ্ণ বিকাশ দত্ত প্রমাণ করেছেন— সেবার জন্য ভাষা নয়, দরকার কেবল এক নিবেদিত হৃদয়।


