পঞ্জাব রাজ্যের হোসিয়ারপুরের বাসিন্দা দ্বারকা ভারতী, পেশায় মুচি। কিন্তু ধৈর্য্য আর অধ্যবসায় তাকে গড়ে তুলেছে এক মননশীল স্পষ্টবাদী লেখক হিসেবে।
বারো ক্লাসের পড়াশোনা শেষ করে পরিবার চালাতে পিতার পেশা, জুতো তৈরির কাজেই যোগ দেন তিনি কিন্তু ছিন্ন হয়নি লেখালিখি আর বই এর সাথে নাড়ির যোগ। তাঁর ভাষায় “আমি জুতো বানাই সংসার চালাতে আর লেখালিখি করি মনের শান্তির জন্য।”
ওঁর আত্মজীবনী “‘এক মোচি কা আদাবি জিন্দগিনামা”(এক মুচির সাহিত্য জীবনী)… কেবলমাত্র তাঁর নিজস্ব জীবন গাথাই নয়, বরং বলা যায় একটি প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের দলিল।
তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু ডঃ সুরেন্দ্র অজ্ঞাত-এর লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। পরবর্তীতে ওম প্রকাশ বাল্মীকির “জুঠান” এর পাঞ্জাবী ভাষায় অনুবাদ করে সাহিত্য যাত্রা শুরু করেন তিনি। এছাড়াও বেশ কিছু শক্তিশালী বই ও কবিতা লিখেছেন দ্বারকা ভারতী। দলিত দর্শন, মশালচি, হিন্দুত্ব কা ড্রাগ ইত্যাদি তাঁর অন্যতম রচনা।
আজ তাঁর রচিত কবিতা ইগনৌ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আর ওঁর আত্মজীবনী পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বিষয়।
ভারতী এখনও নিজের ছোট দোকানটিতে বসেই কাজ করেন, সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন পড়াশোনা আর লেখালিখির কাজ।
তাঁর বিত্তশালী পাঠকসমাজ তাদের বড় বড় দামি গাড়ি নিয়ে সেই দোকানেই আসেন তাঁর সাথে দেখা করতে।
তাঁর মতে কোনও কাজই ছোট নয় যদি তার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যটি বড় হয়।


