Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

ভিন্ন শহর ভিন্ন মানুষ : ভালোবাসার বার্তা দিল বছর শেষের বড়দিন

বড়দিন আসলেই নিজের হাতে ছোট ছোট গিফ্ট বক্স তৈরি করতে দেখা যায় মুম্বইয়ের বেকার মাভোর্নিন পিটার্স-কে।
তার কাছে মানবিকতা কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা তার জীবনযাপনের একটি অংশ।
তার বান্দ্রার ছোট বেকারি থেকে, তিনি শুধু পেস্ট্রিই নয়, তার আশেপাশের পরিবেশে তিনি পাঠান উষ্ণতার বার্তা।
প্রতি বছর, তিনি অনাথ আশ্রমে খাদ্য সামগ্রী দান করেন।
আর সমাজের অনাথ ও দুস্থ শিশুদের জন্য ছোট ছোট ক্রিসমাস বক্স তৈরি করেন — যেগুলোতে থাকে রোল, প্যাটিস, পেস্ট্রি এবং ভালোবাসা — প্রতিটি বক্স এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয় যাতে বড়দিনের আনন্দ ঠিক সেই সব জায়গায় পৌঁছায় যেখানে এটির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।
তিনি তার এই দাতব্য কাজ নিয়ে কখনই সরব হন না, বরং নীরবে, ধারাবাহিকভাবে, সময় বা দিনের হিসাব না করে ভালো কাজ করায় বিশ্বাসী তিনি।
এই কাজ তিনি প্রতিবছর করে চলেছেন এমন একটি শহরে যা কখনও থামে না।
মাভোর্নিন আমাদের মনে করিয়ে দেন যে কাউকে খাওয়ানো, কিছু ভাগ করে নেওয়া, পাশে দাঁড়ানোর মতো সহজ কাজগুলোই আসলে ভালোবাসার সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ।

অন্যদিকে মুম্বইয়ের হাসপাতালে সান্তাবুড়োর সাজে দেখা গেল, বলরাম বিশ্বকর্মা -কে
এই ক্রিসমাসে, তিনি শুধু সান্তার পোশাকই পরেননি, সাথে নিয়ে এসেছিলেন একটি স্মৃতি।
যোগেশ্বরীতে ছোটবেলায় তিনি দেখতেন তার বাবা প্রতি ডিসেম্বরে কেক বিতরণ করতেন — ক্রিসমাস উপলক্ষে তাদের ছোট কারখানা যত কাজ আসত, এটি ছিল সেই কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি নীরব রীতি।
বহু বছর পর, তার বাবা মারা যাওয়া এবং কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও, বলরাম এই ঐতিহ্যটি বাঁচিয়ে রেখেছেন।
তবে এখন তার উপহারগুলো হাসপাতালের বিছানায় পৌঁছে যায়।
২০২৩ সালে প্রথমবার, তিনি সান্তার বেশে কুপার হাসপাতালে যান, হাতে ছিল সফ্ট টয় ও খেলনা ভর্তি ঝুড়ি। তিনি দেখা করেন এমন সব শিশুদের সাথে যারা বাইরে বেরিয়ে ক্রিসমাসের আনন্দে সামিল হতে পারেনি — তাই তিনি ক্রিসমাসকেই তাদের কাছে নিয়ে আসেন।
তিনি কোনও হাততালির কুড়োতে আসেন না।
তিনি আসেন একটি শিশুর চোখে আলো জ্বালাতে।
কারণ বলরামের কাছে ক্রিসমাস মানে সবসময় একটাই জিনিস: হাসি খুশী শিশুরা, যারা ভবিষ্যতে দয়া ও মানবিকতার বার্তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সাহস রাখবে।

কিন্তু এই শিশুদের জন্য একটি সুরক্ষিত , দূষণহীন ভবিষ্যত ও গড়ে যাওয়া দরকার ।সেই কথা মাথায় রেখেই কিছু মানুষ এমন একটি ক্রিসমাস ট্রি বনিয়েছেন, যা আপনি আগে কখনো দেখেননি।বেঙ্গালুরুতে, একটি গির্জা পুরোনো, ছেঁড়া শাড়ি দিয়ে একটি অত্যাশ্চর্য ২৫-ফুট উচ্চতার একটি পরিবেশ-বান্ধব ক্রিসমাস ট্রি তৈরি করেছে — এবং এর ফলাফল হয়েছে জাদুকরী।১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাইমরোজ মার থোমা চার্চ, বড়দিন উদযাপনের নতুন নতুন রূপ দিয়ে আসছে: প্লাস্টিকের বোতল এবং নারকেলের খোল থেকে শুরু করে বাঁশের ফালি এবং এখন শাড়ি পর্যন্ত। যা প্রমাণ করে যে সাসটেনেবলিটি হতে পারে সুন্দর, সৃজনশীল এবং আনন্দময়।এই ক্রিসমাসে,তাদের পাঠানো বার্তাটি সহজ:অপচয় কম করুন।আরও বেশি সৃজনশীল ভাবে উদযাপন করুন।ঐতিহ্য এবং দায়িত্ব একসাথে হাত ধরে চলুক।আপনি কি এই গাছটি বা বড়দিনের উদ্যাপন দেখতে যাবেন?যদি যান, তাহলে আজ আপনি যা দেখবেন তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য আপনি আবিষ্কার করবেন এই যে, এই বড়দিনে সান্তা স্লেজ গাড়িতে করে আসেননি — তিনি এসেছিলেন ফলের ক্রেট, দুলন্ত শুঁড়, নরম থাবা এবং এমন এক আনন্দ নিয়ে, যা প্রকাশের জন্য কোনো শব্দের প্রয়োজন হয় না।

ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-
তাদের না-মানুষ বন্ধুদের জন্য আয়োজন করেছিল ক্রিসমাস পার্টির।
সেখানে উদ্ধার হওয়া ভাল্লুক ও হাতিরা কৌতুহলী চোখে, খুনসুটির গুঁতোয়, মুহূর্তেই ফল মূল সাবাড় করে দেয়।
আরেকবার বেঁচে থাকার সুযোগ পাওয়া এই জীব জন্তুরাও, প্রান-প্রাচুর্যে ভরপুর কিছু মুহূর্তের মাধ্যমে এই নতুন ঋতুকে স্বাগত জানিয়েছে, যার ছবি আপনাকে এক মুহূর্তের জন্য বাইরের জগৎ ভুলিয়ে দেবে।
তাদের বড়দিনের ভোজের ছবিগুলো দেখুন এবং আমাদের জানান — কোন মুহূর্তটি আপনার মনে সবচেয়ে বেশি গেঁথে আছে?
এই বড়দিন-এ ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর সব জায়গায়। উষ্ণতার আলো পাক প্রতিটি প্রাণ।