একসময় ছিলেন শিশু শ্রমিক, আজ তিনি ন্যায় ও শিশু-অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের এক অক্লান্ত যোদ্ধা — অমর লালের জীবন মানবাত্মার সুপ্ত শক্তি ও আহরিত শিক্ষার রূপান্তরকারী প্রভাবের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
রাজস্থানের এক পাথর খনি থেকে নোবেলজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী উদ্ধার করেন অমর লালকে। সেখান থেকেই শুরু হয় দুঃসহ জীবনের বন্ধন ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা এবং শিশু অধিকার রক্ষার আইনজীবী হিসেবে উত্থানের অভূতপূর্ব যাত্রা।
শৈশবে লালের দিন কাটত নির্মম শ্রমে, শৈশবের আনন্দ ছিল সুদূরের স্বপ্ন। তিনি স্মৃতিচারণায় বলেন,- “প্রতিদিন সকালে আমরা এক খনি থেকে আরেক খনিতে চলে যেতাম। স্কুল ছিল আমাদের কাছে অধরা কল্পনা।” কিন্তু কৈলাস সত্যার্থীর সাথে এক আকস্মিক সাক্ষাৎ তাঁর জীবন বদলে দেয়।

লাল জানান, “কৈলাশজি আমার বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি স্কুলে যাই কি না?
তাঁরা হতভম্ব হয়েছিলেন। আমাদের পরিবারে কোনোদিন কেউ শ্রেণিকক্ষে পা রাখেনি। আমরা যাযাবর জীবন ছাড়া আর কিছু জানতাম না।”
লালের মধ্যে নিহিত সুপ্ত সম্ভাবনাকে চিনতে পেরে সত্যার্থী তাঁকে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করেন। সেখানেই লাল খুঁজে পান শান্তি, বন্ধুত্বের স্পর্শ এবং নতুন করে জীবনের উদ্দেশ্য।
সহপাঠীদের মধ্যে অগ্রগতির দৃঢ়তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে লাল শপথ নেন পরিবর্তন আনার। তাঁর কথায়, “আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমি কতটা সৌভাগ্যবান। তখনই স্থির করেছিলাম অন্য শিশুদেরও একই সুযোগ করে দেব।”
২০১৮ সালে আইনজীবী হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর লাল যোগ দেন কৈলাশ সত্যার্থীর সঙ্গে। শিশু শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইকে তিনি জীবনব্যাপী দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন।
আজ পর্যন্ত তিনি ২৫০টিরও বেশি মামলা পরিচালনা করেছেন—অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত শিশু, শোষণের শিকার ও নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা কিশোরদের পক্ষে দাঁড়িয়ে। ন্যায়ের প্রতি তাঁর অক্লান্ত অঙ্গীকার অগণিত তরুণ জীবনে আলো ছড়িয়ে চলেছে।


