Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

বেনগেরি গ্রামের নাম শুনেছেন? জাতীয় পতাকার সঙ্গে এই গ্রামের সম্পর্ক জানলে অবাক হবেন

২২ জুলাই ছিল ‘তিরঙ্গা দিবস’। জাতীয় পতাকার সম্মানে পালিত হয় এই দিনটি। সামনেই আসছে স্বাধীনতা দিবস। অলিতে গলিতে উত্তোলিত হবে জাতীয় পতাকা।

কখনও ভেবে দেখেছেন আমাদের দেশের জাতীয় পতাকা তৈরি হয় কোথায়??
না কোনো বড় শহরের বড় কারখানায় নয় কর্নাটক রাজ্যের হুবলি জেলার বেনগেরি নামে এক শান্ত গ্রামীণ এলাকায়, যেখানকার ৯০ শতাংশ মহিলারাই দক্ষ হাতে সুতো তৈরি, রঙ করা থেকে শুরু করে হাতে সেলাই করে তৈরি করেন একটি একটি করে পতাকা। কোনও বড়সড় হেভি মেশিনারির সাহায্য ছাড়াই।
১৫ অগাস্টের লালকেল্লা হোক বা শহিদের অন্তিম বিদায়ী সম্মান— সব পতাকা যায় এখান থেকেই।
এসব শুরু হয়েছিল ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামী ভেংকটেশ মাগাদির হাত ধরে।

২০০৬ সালে কেকেজিএসএস(কর্নাটক খাদি গ্রামোদ্যোগ সংযুক্ত সংঘ) ভারতের একমাত্র সরকার অনুমোদিত জাতীয় পতাকা তৈরির সংগঠনের মর্যাদা লাভ করে।

প্রতিটি পতাকার যাত্রা শুরু হয় তুলাসিগেরি থেকে। সেখানেই হাতে কেটে তুলো থেকে খাদি সুতো তৈরি হয়। তারপর বেনগেরিতে এসে রঙ হয়ে, সেলাই হয়ে রূপ পায় এক-একটি পতাকা। কোনো মেশিনের সহায়তা নেই, নেই শর্টকাট করার উপায়।

প্রতিটি পতাকা কড়া পর্যবেক্ষণের পর্যায় পার করে ইস্ত্রি হয়ে প্যাকেটজাত হয়।

এখানে পারফেকশন একটি আপসহীন বিষয়। একটি সুতোর হেরফের, একটু রঙের হেরফের হলেই বাতিল হয় কাজ কারণ এটি সাধারণ কাপড় নয় এর সাথে জড়িয়ে জাতীয় গৌরব।

এখানকার কারখানায় কর্মরত জনা ২৫ মহিলাদের মধ্যেই একজন অন্নপূর্ণা বললেন… “আমরা হয়ত জীবনভর এই গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাব না, কিন্তু আমাদের হাতে তৈরি পতাকা, দেশ বিদেশের বিশেষ বিশেষ স্থানে গৌরবের সাথে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সারা বিশ্বে গৌরবান্বিত করবে দেশের নাম।

গত তের বছরে তিন কোটিরও বেশি পতাকা বানিয়েছেন এই গ্রামের মহিলারা। সেই পতাকা স্থান পেয়েছে সংসদ ভবন থেকে শুরু করে, সমস্ত সরকারি দফতর, সেনা ছাউনি, স্কুল কলেজ এমনকি বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দূতাবাসগুলিতেও এবং অবশ্যই সব ভারতীয়র জীবনে।