Friday, August 14, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

ভাষাহীনের রান্নাঘর’ — মাত্র ৫ টাকায় পুষ্টিকর আহার, গজরাজ সিংহ কচ্ছাওয়ার উদ্যোগ

এক শীতের সকালের কথা। গজরাজ সিংহ কচ্ছাওয়া এক চায়ের দোকানে বসে গরম, ধোঁয়া-ওঠা মিষ্টি চা খাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই তিনি লক্ষ্য করেন, এক ব্যক্তি পাঁচ টাকার একটি বিস্কুটের প্যাকেট কিনে রাস্তার এক পথকুকুরকে বিস্কুট খাওয়াচ্ছেন।

গজরাজের মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। তিনি জানতেন, বিস্কুট কুকুরদের জন্য ভালো নয় — এতে অতিরিক্ত চিনি ও ময়দা থাকে, যা কুকুরদের অসুস্থ করে তুলতে পারে। তিনি এগিয়ে গিয়ে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তিনি কুকুরটিকে বিস্কুট খাওয়াচ্ছেন।

লোকটি নির্বিকারভাবে জানায় “আমার সামর্থ্য এতটুকুই। পাঁচ টাকার বিস্কুটই দিতে পারি।” এই উত্তর গজরাজকে নাড়া দেয় গভীরভাবে। তিনি স্থির করলেন, কিছু একটা করতে হবে এই অসহায় প্রাণীদের জন্য। সেখান থেকেই শুরু ‘বেজুবানোঁ কি রসোই’ — বা ‘ভাষাহীনের রান্নাঘর’।


এটি একটি রান্নাঘর, যেখানে পুষ্টিকর ও প্রিপ্যাকড কুকুরের খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি করা হয়, মাত্র ৫ টাকায়। গজরাজ বলেন, “আমরা এখন প্রতিদিন ৫০০টিরও বেশি প্যাকেট বিক্রি করছি।”

প্রতিটি ৪০০ গ্রাম ওজনের প্রিপ্যাকড খাবারে থাকে পনির, সয়াবিন, ভাত, ডিম ও প্রয়োজনীয় মাল্টিভিটামিন।
প্রথমে গজরাজ এই খাবার বিনামূল্যে বিতরণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বন্ধুরা তাঁকে পরামর্শ দেন, অল্প হলেও একটি মূল্য ধার্য করা উচিত। গজরাজ স্মিতহাস্যে বলেন, “বন্ধুরা বলল, বিনামূল্যে দিলে কেউ এর মূল্য বুঝবে না। তাই বিস্কুটের ঘটনার কথা মাথায় রেখেই আমি ৫ টাকা নেওয়া শুরু করি।”

যে সমাজে শুধু মানুষ নয় কুকুরের জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও দারিদ্র ও বিত্তশালীর পার্থক্য খুব প্রকট আর পোষ্যদের পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রীর মূল্য আকাশছোঁয়া, সেখানে গজরাজের এই উদ্যোগ অতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

বর্তমানে গজরাজ জয়পুর জুড়ে আরও পাঁচটি কাউন্টার খোলার পরিকল্পনা করেছেন, যাতে প্রতিদিন অন্তত ৩,০০০ কুকুরকে আহার দেওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত অনুদান গ্রহণ করি না। আমাদের পুরো উদ্যোগই আত্মনির্ভর — প্যাকেট বিক্রির অর্থেই আমরা সবকিছু চালাই।”

তাহলে আপনার কী রায়?? প্রিয় পোষ্যকে সুস্থ রাখতে চান? চকোলেট বা মিষ্টি বিস্কুট নয় — দিন প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটে ভরপুর পুষ্টিকর আহার। কুকুরের প্রতি ছোট্ট এই যত্নই হতে পারে তাদের জীবনের বড় উপহার।